প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানোর প্রস্তুতির অভিযোগে সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই নারীসহ সাত বাংলাদেশিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আটক সাতজন হলেন বাগেরহাটের বকুলতলা গ্রামের হাবিব হাওলাদারের ছেলে মো. সাইফুল (২১), খুলনার দিগলদিয়া থানার বাগমারা গ্রামের হুমায়ুন শিকদারের ছেলে মো. রাব্বি শিকদার (১৭), কাজিগঞ্জ মোগলা গ্রামের রিয়াদুলের ছেলে মো. কাউছার (১৬), বাগেরহাটের বকুলতলা গ্রামের বাবুল মোল্লার ছেলে মো. ওমর ফারুক (১৮), একই জেলার মোড়লগঞ্জ থানার নিশানবাড়িয়া গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মো. পারভেজ হাসান (২১), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ভমবাগ গ্রামের সুরত আলীর মেয়ে শম্পা (২৪) এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার সুতারপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে মুন্নি (১৬)।
পুলিশ ও আটক ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত এক দালালের মাধ্যমে ভারতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন পেয়ে তারা সিলেটের জাফলং এলাকায় আসেন। তাদের মধ্যে দুই নারীকে ভারতে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে মাসে ৫০ হাজার টাকা এবং পাঁচ যুবককে বিভিন্ন কোম্পানিতে মাসে ৩৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরে মিজান নামে এক ব্যক্তি তাদের পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামের আব্দুল মান্নানের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থান করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারে গোয়াইনঘাট থানার তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ি। পরে ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নলজুরি বড়ইতলা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে দুই নারীসহ সাতজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তবে তাদের ভারতে পাচারের সঙ্গে জড়িত কোনো দালালকে এখনো আটক করার তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ওই সাতজন নলজুরি বড়ইতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটক সাতজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চাকরির নামে সীমান্ত পারাপারের এমন ঘটনায় দালালচক্রের ভূমিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


