আযাদের আপিল শুনানি চার সপ্তাহ মুলতবি

প্রকাশ:০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের আপিলের অনুমতি সংক্রান্ত শুনানি চার সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে মন্তব্য করায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলামকে সতর্ক করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আবুল কালাম আযাদের মামলাটি এখন আরও কিছু সময় পর আপিল বিভাগে শুনানির জন্য উঠবে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে বিষয়টি আবার শুনানিতে আসার কথা রয়েছে।

আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী, ইমরান এ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও মীর ওসমান বিন নাসিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম।

শুনানি শেষে আবুল কালাম আযাদের আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগ শুনানি চার সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন। অবকাশকালীন ছুটি শেষে বিষয়টি পুনরায় আদালতের কার্যতালিকায় উঠবে এবং তখন মূল আপিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলোর ওপরও একসঙ্গে শুনানি হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে। ফলে আপিলের পরবর্তী শুনানির জন্য ওই সময়ের পরের তারিখ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আযাদের আইনজীবী আরও জানান, তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিতের মেয়াদ আগামী ২২ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে আপিল বিভাগের পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত আযাদের সাজা কার্যকর করার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকছে না বলেই তার আইনজীবীর বক্তব্য।

এদিকে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গেও মঙ্গলবারের শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এসেছে। আবুল কালাম আযাদের আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিচারাধীন মামলা নিয়ে গণমাধ্যমে অতিরিক্ত মন্তব্য করার কারণে আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলিকে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আগাম মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে।

আদালতের সতর্কতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলামও। তিনি বলেন, আদালত তাদের বিচারাধীন বিষয়ে আগাম মন্তব্য না করতে বলেছেন। ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের আগাম মন্তব্য করবেন না বলেও জানান তিনি।

মামলাটির বর্তমান পর্যায়ে আদালতের এ অবস্থান বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ আবুল কালাম আযাদের আপিলের গ্রহণযোগ্যতা, বিলম্ব মার্জনা এবং মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো সর্বোচ্চ আদালতের বিচারাধীন। ফলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে মামলার বিষয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য কতটা করা উচিত, তা নিয়েও নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।

আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় প্রায় ১৩ বছর ধরে আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। চলতি বছরের ৬ জুলাই তিনি ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। একই সঙ্গে আপিল করতে দীর্ঘ বিলম্বের জন্য ৪ হাজার ৯১৫ দিনের বিলম্ব মার্জনার আবেদন করেন তিনি। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট আবুল কালাম আযাদের আপিল ও সাজা স্থগিতের আবেদন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসে। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ তার আপিল খারিজের আবেদন করে। এরপর বিষয়টি মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় ছয় নম্বর ক্রমিকে ওঠে। শুনানি শেষে আদালত চার সপ্তাহের জন্য তা মুলতবি করেন।

তবে আপিলের সময়সীমা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান ভিন্ন। এর আগের দিন সোমবার নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, আপিল দায়েরের শর্তে আবুল কালাম আযাদকে আত্মসমর্পণের যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেটি আইনসম্মত নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে।

প্রধান কৌঁসুলির দাবি ছিল, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের নির্ধারিত সময়সীমাকে অতিক্রম করে কোনো আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার সরকারের নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, আইন অনুযায়ী কোনো সাজা স্থগিত, রিমিট বা বাতিল করার ক্ষেত্রে সরকারের নির্দিষ্ট ক্ষমতা থাকলেও আবুল কালাম আযাদের মামলায় আপিলের সময়সীমার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মামলার ইতিহাস আরও পুরোনো। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় আসে আবুল কালাম আযাদের মামলায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে এর মধ্যে সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে আবুল কালাম আযাদ দেশে ফেরেন। এরপর তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার অধীনে সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তার দণ্ডাদেশ স্থগিত করে। তবে সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একটি শর্তও যুক্ত ছিল। তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল করতে বলা হয়। শর্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আযাদ। এরপর ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তিনি।

দীর্ঘদিন পর মামলাটি আবার সর্বোচ্চ আদালতের সামনে আসায় এটি বিচারিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। একদিকে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের সময়সীমা ও আত্মসমর্পণের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে আসামিপক্ষ বিলম্ব মার্জনা ও আপিলের সুযোগ চেয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করছে। এখন এসব প্রশ্নের নিষ্পত্তি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

এই মামলার সঙ্গে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও জড়িয়ে রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গুরুতর অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম দিকের রায়গুলোর মধ্যে আযাদের মামলাটি অন্যতম। তাই মামলাটির পরবর্তী গতিপথের দিকে আইনজীবী, বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষেরও নজর রয়েছে।

তবে মঙ্গলবারের শুনানিতে আদালতের সতর্কবার্তার কারণে বিচারাধীন মামলা নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্যের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এসেছে। মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যেন বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করে, সে বিষয়ে আদালতের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

এখন অবকাশকালীন ছুটি শেষে আপিল বিভাগে মামলাটি আবার উঠলে আবুল কালাম আযাদের আপিলের অনুমতি, দীর্ঘ বিলম্বের কারণ এবং মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে শুনানি এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি ও আসামিপক্ষের আইনি যুক্তিও আদালতের সামনে আরও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হবে।

ফলে চার সপ্তাহের এই মুলতবি শুধু সময়ের ব্যবধান তৈরি করেনি; বরং বহু বছর ধরে চলা একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পরবর্তী আইনি মোড়ের জন্য অপেক্ষার সময়ও বাড়িয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি থাকবে অবকাশ শেষে আপিল বিভাগের পরবর্তী শুনানির দিকে এবং আদালত শেষ পর্যন্ত কোন আইনি সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, তার ওপর।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনে ২৫০ কোটি টাকা ফেরত

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাতিসংঘ অধিবেশনে আজ সভাপতির দায়িত্ব নেবেন খলিলুর রহমান

প্রকাশ:  ০৮ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার ৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ভেনিসে হেনস্তার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, থানায় অভিযোগ

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দেশে ফেরার পথে সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ প্রবাসী নিহত

প্রকাশ:  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনে ২৫০ কোটি টাকা ফেরত

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাতিসংঘ অধিবেশনে আজ সভাপতির দায়িত্ব নেবেন খলিলুর রহমান

প্রকাশ:  ০৮ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার ৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ভেনিসে হেনস্তার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, থানায় অভিযোগ

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দেশে ফেরার পথে সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ প্রবাসী নিহত

প্রকাশ:  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিদেশযাত্রীদের ভুয়া রিপোর্ট, সিলেটে লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ফের আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সাইফুরের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, প্রশ্ন রিজভীর

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ