মসজিদ কমিটির বিরোধে প্রাণ গেল সালিশ ব্যক্তিত্বের, আহত ১০

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মসজিদ কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘটিত হামলায় মো. গেদা মিয়া (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তেতলী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণ হারান তিনি। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহত গেদা মিয়া স্থানীয়ভাবে একজন সালিশ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি ও স্থানীয় বিষয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একটি মসজিদের কমিটি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৩ নম্বর তেতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ কমিটি গঠন ও পরিচালনা নিয়ে নিহত গেদা মিয়ার পরিবারের সঙ্গে আলাউদ্দিন ও ইলিয়াসের পক্ষের বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে সেই বিরোধ কীভাবে এত বড় সহিংসতায় রূপ নিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় আলাউদ্দিন, ইলিয়াসসহ কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে গেদা মিয়া ও বাবুলের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় গেদা মিয়ার ছেলে কামালের বাড়িতেও লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীদের বাধা দিতে এগিয়ে গেলে গেদা মিয়ার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৫ থেকে ২০টি আঘাত করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গেদা মিয়াকে রক্ষা করতে পরিবারের সদস্য এবং গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় হামলাকারীরা একাধিক বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও মারধর চালিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একপর্যায়ে হামলাকারীরা বাবুলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রবিন নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে নিজের বাড়ি নিশ্চিন্তপুরে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই ঘটনায় আনছার আলী, কাহির মিয়া, বশির মিয়া, তাহমিম আহমদ মুরাদসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আহতদের সবার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তার কারণে বাড়ির বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছিলেন। একটি সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এভাবে একাধিক পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হামলার খবর পেয়ে তেতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর তিনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছান। পরে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তাঁদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নিহত গেদা মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়ভাবে সালিশ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত একজন প্রবীণ ব্যক্তির এমন সহিংসতার শিকার হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের পরিচিত একজন মানুষের এমন পরিণতি স্থানীয়দের কাছে গভীরভাবে বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আহতদের পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের স্বজনদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

স্থানীয় পর্যায়ে মসজিদ কমিটি গঠন ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধ নতুন নয়। অনেক এলাকায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব নির্বাচন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং পরিচালনাগত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ দেখা দেয়। সাধারণত এসব বিষয়ে আলোচনা, পারস্পরিক সমঝোতা এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ থাকে। কিন্তু মতবিরোধ যখন ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রভাব বিস্তার কিংবা প্রতিশোধের ঘটনায় রূপ নেয়, তখন তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নয়, পুরো এলাকার সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের এই হত্যাকাণ্ডও স্থানীয় বিরোধ নিরসনে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত পদ্ধতির গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। একটি মসজিদের কমিটি নিয়ে মতবিরোধ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব ছিল কি না, কারা বিরোধকে সহিংসতার দিকে নিয়ে গেল এবং হামলার পেছনে প্রকৃত কারণ কী—এসব বিষয় এখন তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে হামলার সময় একাধিক বাড়িতে আক্রমণ, লুটপাটের অভিযোগ এবং পথচারীকে কুপিয়ে আহত করার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা দরকার।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম শনিবার জানান, নিহত গেদা মিয়ার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা দায়েরের আগেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত আলাউদ্দিন, ইলিয়াস কিংবা তাঁদের পক্ষের অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, আহত ব্যক্তি, নিহতের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কমিটি নিয়ে বিরোধ রয়েছে, সেসব বিরোধ যেন কোনোভাবেই প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।

একজন মানুষের প্রাণহানি এবং একই ঘটনায় অন্তত ১০ জনের আহত হওয়ার ঘটনা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্যই বড় ধরনের ক্ষতি। এখন নিহতের পরিবার ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে, আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং এলাকাবাসী অপেক্ষা করছেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের। পুলিশের তদন্তে হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সহিংসতার পেছনের ভূমিকা স্পষ্ট হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

সৌদিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

গভীর রাতে সড়ক উন্নয়নকাজে মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট-চট্টগ্রাম-নোয়াখালী পুনরুদ্ধারের দাবি বিজেপি এমপির

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হৃদয়ের মহাকাব্যিক ইনিংস, হাতছানি ডাবল সেঞ্চুরি

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

সৌদিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

গভীর রাতে সড়ক উন্নয়নকাজে মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট-চট্টগ্রাম-নোয়াখালী পুনরুদ্ধারের দাবি বিজেপি এমপির

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হৃদয়ের মহাকাব্যিক ইনিংস, হাতছানি ডাবল সেঞ্চুরি

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

পোশাকশিল্পে অস্থিরতায় বিনিয়োগে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এআই আতঙ্কে ওয়াল স্ট্রিটে ধস, উধাও আড়াই লাখ কোটি ডলার

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আ. লীগের রাজনীতির সুযোগ আর দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ