২০২৯ সালের জুনে প্রস্তুত হবে ঢাকা-সিলেট ছয় লেন

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ বর্তমানে আগের তুলনায় গতি পেয়েছে এবং ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতা কাটিয়ে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার দুপুরে সিলেটের কুশিয়ারা কনভেনশন হলে সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান। তার বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা এবং ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা কয়েক বছর আগে নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় প্রকল্পটির কাজে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রকল্পের অগ্রগতি খুবই সীমিত ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের দুই বছরের মেয়াদ শেষে প্রকল্পের অগ্রগতি ছিল প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় নির্মাণকাজও কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারেনি।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান সরকার প্রকল্পটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। ভূমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ এগিয়ে যাওয়ায় এখন নির্মাণকাজেও গতি এসেছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে মহাসড়কটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের রাজধানীর সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। সিলেট বিভাগের সঙ্গে রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ফলে মহাসড়কটির উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রত্যাশিত অবকাঠামোগত দাবি।

সিলেটের ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের কাছেও মহাসড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানী থেকে সিলেটে পণ্য পরিবহন, সিলেট থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পাঠানো এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় এই সড়কের ভূমিকা রয়েছে। মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত হলে ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ সামলানোর সক্ষমতা বাড়বে এবং যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রী আরও জানান, দক্ষিণ সুরমার যে এলাকায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের কাজ হচ্ছে, সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের সেই অংশও চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সিলেটের শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমও ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকার কথা জানিয়েছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেন।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পর প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি প্রায় ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে শতভাগ ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সময়ে প্রকল্পের ভৌত কাজের অগ্রগতি প্রায় ২৭ শতাংশ বলে জানান।

প্রকল্পের কাজ মোট ১৩টি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি এখনো সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। অন্য আটটি প্যাকেজের কাজ সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে বলে তিনি জানান। যেসব অংশে কাজের গতি কম, সেসব ক্ষেত্রে সমস্যা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

তবে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধু নির্মাণকাজ শুরু করাই যথেষ্ট নয়; সময়মতো ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর, বিভিন্ন প্যাকেজের কাজের সমন্বয় এবং নির্মাণকাজ চলাকালে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ক্ষেত্রেও এসব বিষয় প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিকে প্রভাবিত করছে। এরই মধ্যে নির্মাণকাজের কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সাময়িক জনদুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় প্রকল্পের কাজের গতি কম থাকায় বর্তমানে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার সময় কিছুটা জনদুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে মহাসড়কটি উন্নত হলে যোগাযোগব্যবস্থায় এর সুফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি প্রকল্পের যেসব অংশে কাজ প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোচ্ছে না, সেগুলোতে গতি বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়ন নিয়ে সিলেট অঞ্চলের মানুষের আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যা। সড়কের বিভিন্ন অংশে যানজট, ধীরগতির যানবাহন এবং নির্মাণকাজের কারণে চলাচলে সময় বেড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা যাত্রীদের জন্য নতুন নয়। মহাসড়কের উন্নয়ন শেষ হলে সড়কের ধারণক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় সময় ও ভোগান্তি কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের জন্যও এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পণ্য পরিবহনে সময় কমলে সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। রাজধানী ও সিলেটের মধ্যে পণ্যবাহী যান চলাচল আরও কার্যকর হলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সিলেটের পর্যটন খাতেও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা ধরে রাখতে হলে বর্তমান অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুত সম্পন্ন করা, ধীরগতির প্যাকেজগুলোতে কাজ বাড়ানো এবং নির্মাণকাজের সঙ্গে সাধারণ মানুষের চলাচলের সমন্বয় করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ও নির্ধারিত সময়সীমা—দুটির মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাই এখন বড় বিষয়।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালের জুন থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ করার লক্ষ্য সামনে রয়েছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জুন ২০২৯-এর মধ্যে কাজ শেষ করে জনগণের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য জানিয়েছেন, আর শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে দেওয়া বক্তব্যে ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের কথা বলেছেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের গতি বাড়ায় সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশাও বাড়ছে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণকাজ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করে মহাসড়কটি বাস্তবে কত দ্রুত মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করা যায়, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তব অগ্রগতির সমন্বয় ঘটলেই ঢাকা-সিলেট যোগাযোগব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

চূড়ান্ত সুপারিশের পরও নিয়োগপত্র নেই বানিয়াচংয়ের ৯ জনের

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

২০২৭ বিশ্বকাপই শেষ, জানিয়ে দিলেন বিরাট কোহলি

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সাদিক কায়েমের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন মাদানীর

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হচ্ছে এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শিগগিরই পরিদর্শন

প্রকাশ:২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

দেশের সব হাটবাজারে সৌর বিদ্যুতের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

চূড়ান্ত সুপারিশের পরও নিয়োগপত্র নেই বানিয়াচংয়ের ৯ জনের

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

২০২৭ বিশ্বকাপই শেষ, জানিয়ে দিলেন বিরাট কোহলি

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সাদিক কায়েমের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন মাদানীর

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হচ্ছে এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শিগগিরই পরিদর্শন

প্রকাশ:২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

দেশের সব হাটবাজারে সৌর বিদ্যুতের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে ৩০ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি, ৮০ আয়োজনে অংশ

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ওসমানী বিমানবন্দরে আনসারের গুলিতে কর্মী আহত

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাতিসংঘে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলে জাইমা রহমান

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ