চূড়ান্ত সুপারিশের পরও নিয়োগপত্র নেই বানিয়াচংয়ের ৯ জনের

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার নয়জন প্রার্থী। দীর্ঘ প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত ফলাফলে নাম আসার পর নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হলেও বানিয়াচংয়ের এই নয়জন এখনো তা পাননি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা।

প্রার্থীদের ভাষ্য, নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি তারা মেডিকেল ফিটনেস সনদও দিয়েছেন। এরপরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। নিয়োগপত্র আটকে থাকার সুনির্দিষ্ট কারণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা জানতে পারেননি বলেও দাবি করেছেন প্রার্থীরা।

প্রার্থীদের কয়েকজনের ধারণা, নিয়োগের আগে সম্পন্ন হওয়া যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার কারণে তাদের নিয়োগপত্র আটকে থাকতে পারে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন, এনএসআই ও ডিএসবি যাচাইয়ের প্রতিবেদনে তাদের বিষয়ে ‘নেতিবাচক’ তথ্য থাকার কথা তারা জানতে পেরেছেন। তবে ওই প্রতিবেদনে কী ধরনের তথ্য রয়েছে, তার ভিত্তি কী কিংবা কেন তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

বানিয়াচং উপজেলা থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৬ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনের নিয়োগপত্র আটকে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা জানিয়েছেন। তবে ওই ১১ জনের মধ্যে দুজন এখনো মেডিকেল ফিটনেস সনদ জমা দেননি। ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল ফিটনেস সনদ জমা দেওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা নয়জন।

এই নয়জন হলেন সাজনিন আক্তার, আবু বকর মিয়া, জাকিরুল ইসলাম, হামিদুর রহমান, সাজিদুল হাসান, রাহুল দাশ, বিকাশ দাশ, মহিবুর রহমান ও ধীমান দাশ। প্রত্যেকেই দীর্ঘ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা। সাজনিন আক্তার সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। আবু বকর মিয়া ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। জাকিরুল ইসলাম হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে এবং হামিদুর রহমান ও সাজিদুল হাসান গণিত বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন।

অন্যদিকে রাহুল দাশ বাংলা বিষয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করেছেন। বিকাশ দাশ, মহিবুর রহমান ও ধীমান দাশ ইংরেজি বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে তারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

চূড়ান্ত ফলাফলে নাম প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই নিয়োগের বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন এসব প্রার্থী। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, পরীক্ষা, যাচাই-বাছাই এবং অন্যান্য ধাপ অতিক্রম করে যখন চূড়ান্ত ফলাফলে নিজেদের নাম দেখতে পান, তখন তারা ধরে নিয়েছিলেন শিগগিরই নিয়োগপত্র হাতে পাবেন। কিন্তু নিয়োগপত্র না পাওয়ায় সেই আশার জায়গায় এখন তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের কয়েকজন বলেন, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার বিষয়টি তাদের জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর একজন প্রার্থী সাধারণত নতুন কর্মজীবনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। কিন্তু নিয়োগপত্র আটকে থাকায় তারা নিশ্চিতভাবে জানতে পারছেন না, শেষ পর্যন্ত তাদের নিয়োগের বিষয়টি কী অবস্থায় রয়েছে।

এক প্রার্থী বলেন, তারা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল ফিটনেস সনদ জমা দিয়েছেন। এরপরও কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না, সেটি তাদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। যদি ভেরিফিকেশনে কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে সেটি তাদের জানানো উচিত বলে মনে করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরেক প্রার্থী বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলে নিজের নাম দেখে তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু অন্য প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পেলেও তারা তা না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা যাচাই-বাছাইয়ে কোনো সমস্যা থাকলে সেটির সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো এবং যাচাই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।

প্রার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা দাবি করছেন না। বরং নিয়োগপত্র আটকে থাকার প্রকৃত কারণ জানতে চান। তাদের কারও বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের কোনো বিষয় থাকলে সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে জানানো হোক—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হওয়ায় কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হলে তার নিয়োগপত্র প্রদানের সময় ভিন্ন হতে পারে। তবে বানিয়াচংয়ের নয়জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে ঠিক কোন কারণে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনো কারণ নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।

প্রার্থীদের মধ্যে এ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে যে, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে তাদের চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা চাকরির আশায় অন্য সুযোগ বা কর্মসংস্থানের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতিটি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ফলাফলে নাম প্রকাশিত হওয়া একজন প্রার্থীর জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি ও অপেক্ষার পর গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন। ফলে চূড়ান্ত সুপারিশের পর নিয়োগপত্র না পাওয়ার বিষয়টি প্রার্থীদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে কোনো প্রশাসনিক বা যাচাইসংক্রান্ত কারণে নিয়োগপত্র বিলম্বিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের কাছে সেই কারণ পরিষ্কারভাবে জানানো হলে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

বানিয়াচংয়ের এসব প্রার্থী দ্রুত তাদের নিয়োগপত্র প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিয়োগপত্র আটকে থাকার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করবে এবং যাচাই-বাছাই বা প্রশাসনিক কোনো জটিলতা থাকলে তা পরিষ্কার করবে।

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার এই পরিস্থিতিতে এখন সংশ্লিষ্ট নয়জন প্রার্থী অপেক্ষা করছেন কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট সিদ্ধান্তের জন্য। তাদের কাছে বিষয়টি শুধু একটি চাকরির কাগজ হাতে পাওয়ার অপেক্ষা নয়; বরং দীর্ঘদিনের পড়াশোনা, প্রস্তুতি ও প্রতিযোগিতার পর শুরু হতে যাওয়া কর্মজীবনের নিশ্চয়তার সঙ্গেও এটি জড়িয়ে আছে। তাই দ্রুত স্বচ্ছতা ও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের অনিশ্চয়তার অবসান হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন তারা

এই সপ্তাহের খবরাখবর

২০২৭ বিশ্বকাপই শেষ, জানিয়ে দিলেন বিরাট কোহলি

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সাদিক কায়েমের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন মাদানীর

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হচ্ছে এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শিগগিরই পরিদর্শন

প্রকাশ:২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

দেশের সব হাটবাজারে সৌর বিদ্যুতের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে ৩০ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি, ৮০ আয়োজনে অংশ

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

২০২৭ বিশ্বকাপই শেষ, জানিয়ে দিলেন বিরাট কোহলি

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সাদিক কায়েমের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন মাদানীর

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হচ্ছে এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শিগগিরই পরিদর্শন

প্রকাশ:২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

দেশের সব হাটবাজারে সৌর বিদ্যুতের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে ৩০ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি, ৮০ আয়োজনে অংশ

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

২০২৯ সালের জুনে প্রস্তুত হবে ঢাকা-সিলেট ছয় লেন

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ওসমানী বিমানবন্দরে আনসারের গুলিতে কর্মী আহত

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাতিসংঘে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলে জাইমা রহমান

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ