প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে আনসার সদস্যের ছোড়া গুলিতে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নাম রুবেল আহমদ। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটেনি; পাখি তাড়ানোর সময় দুর্ঘটনাবশত গুলি ছুটে গিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী রুবেল আহমদের শরীরে লাগে। তবে কীভাবে গুলি ছোড়া হলো এবং দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে আনসার সদস্য মোজাম্মেল একটি গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। বিমানবন্দরের রানওয়ে ও আশপাশের এলাকায় পাখির উপস্থিতি উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ কারণে নিয়মিতভাবে পাখি তাড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেই দায়িত্ব পালনের সময় মোজাম্মেল তার কাছে থাকা শর্টগান দিয়ে পাখি তাড়ানোর উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়েন বলে জানা গেছে।
তবে ওই গুলিই গিয়ে পাশে থাকা পরিচ্ছন্নতাকর্মী রুবেল আহমদের কোমরে লাগে। হঠাৎ গুলির শব্দে রানওয়ে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সহকর্মী ও সেখানে থাকা অন্যরা দ্রুত আহত রুবেলের কাছে ছুটে যান। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, রানওয়েতে পাখি তাড়ানোর সময় নির্দিষ্ট নিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা রয়েছে। তার দাবি, পাখি তাড়ানোর জন্য গাড়ি থেকে নেমে গুলি ছোড়ার নিয়ম থাকলেও ঘটনার সময় আনসার সদস্য মোজাম্মেল গাড়িতে বসেই গুলি ছোড়েন। আর সেখান থেকেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি মনে করছেন।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীর এই বক্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। ফলে গুলি ছোড়ার সময় ঠিক কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল এবং কোনো ধরনের নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।
বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানিয়েছেন, গুলি লাগার ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং দুর্ঘটনাবশত এমনটি ঘটেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর আঘাত গুরুতর নয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়মের ব্যত্যয় বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
বিমানবন্দর এলাকায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রানওয়ে এমন একটি সংবেদনশীল এলাকা, যেখানে একই সময়ে উড়োজাহাজ, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের কাজ করতে হয়। ফলে সেখানে কোনো ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা ও নির্ধারিত নিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি।
পাখি নিয়ন্ত্রণ বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রানওয়ের আশপাশে পাখির উপস্থিতি উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে পাখি ঢুকে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরের মতো সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও পাখি তাড়ানোর বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তবে পাখি তাড়ানোর মতো একটি নিয়মিত নিরাপত্তা কার্যক্রমের মধ্যেই যদি কোনো কর্মী গুলিবিদ্ধ হন, তাহলে সেখানে ব্যবহৃত পদ্ধতি, অস্ত্রের নিরাপদ ব্যবহার এবং আশপাশে থাকা কর্মীদের অবস্থান—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ ঘটনার পর এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের তদন্তে যদি কোনো ধরনের অসতর্কতা বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।
আহত রুবেল আহমদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও ঘটনার আকস্মিকতায় তার সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর এভাবে আহত হওয়ার ঘটনা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নয়। তবে দুর্ঘটনা হলেও এর পেছনে কোনো ধরনের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, সেটি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কারণ একটি দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করা গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
বর্তমানে রুবেল আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তার আঘাত গুরুতর নয়। তবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার মতো ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়িত্ব পালনের সময় নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তদন্তেই স্পষ্ট হবে। বিমানবন্দর পরিচালক হাফিজ আহমদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কর্মরত প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, তেমনি দায়িত্ব পালনের সময় নির্ধারিত নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করাও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শনিবারের এই ঘটনা সেই নিরাপত্তাব্যবস্থার গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন আহত রুবেল আহমদের সুস্থতা এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।


