প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট নগরীর ব্যস্ত আম্বরখানা এলাকায় ময়লার স্তূপ থেকে সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মানুষের একটি খণ্ডিত পায়ের পাতা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে আম্বরখানা এলাকার স্বাদ মিষ্টির দোকানের পাশের ময়লার স্তূপ থেকে খণ্ডিত অংশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিমানবন্দর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে খণ্ডিত পায়ের অংশটি উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিচয় শনাক্তের জন্য সেটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পায়ের অংশটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ময়লার স্তূপে মানুষের একটি খণ্ডিত পায়ের অংশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং খণ্ডিত অংশটি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের ওই সময়ে আম্বরখানা এলাকার সড়কের পাশে ময়লার স্তূপে সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মানুষের পায়ের একটি খণ্ডিত অংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অংশটি উদ্ধার করে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রাতেই এলাকায় মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও আতঙ্ক তৈরি হয়। ব্যস্ত নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ময়লার স্তূপ থেকে মানুষের শরীরের খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি কোনো অপরাধের অংশ কি না, নাকি চিকিৎসাজনিত কারণে শরীরের অংশটি সেখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে—তা নিয়েই এখন তদন্ত চলছে।
তবে ঘটনাটি নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান বা গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। কারণ উদ্ধার হওয়া অংশটি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে এর পরিচয় বা সেখানে পৌঁছানোর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তদন্ত এবং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিমানবন্দর থানার ওসি সহিদুর রহমান বলেন, খণ্ডিত পায়ের অংশ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয়। প্রাথমিকভাবে একটি সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে যে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোনো রোগীর অস্ত্রোপচারের সময় শরীরের অংশটি কেটে ফেলার পর কেউ সেটি যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করে ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে যেতে পারেন।
তবে এটিকে এখনো কেবল প্রাথমিক ধারণা হিসেবেই দেখছে পুলিশ। এর সঙ্গে কোনো অপরাধের যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। ফলে চিকিৎসাজনিত বর্জ্য হিসেবে অংশটি সেখানে এসেছে, নাকি অন্য কোনো কারণে সেটি ফেলা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না পুলিশ।
শরীরের কোনো অংশ অস্ত্রোপচারের পর কীভাবে সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তি করা হয়, সে বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত বর্জ্য সাধারণ ময়লার সঙ্গে ফেলার কথা নয়। যদি তদন্তে এটি চিকিৎসাজনিত বর্জ্য বলে নিশ্চিত হয়, তাহলে সেটি কীভাবে হাসপাতাল বা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে নগরীর সাধারণ ময়লার স্তূপে পৌঁছাল, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন হবে।
অন্যদিকে, যদি ডিএনএ পরীক্ষায় অংশটির সঙ্গে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পর্ক পাওয়া যায়, তাহলে তদন্তের গতিপথ ভিন্ন দিকে যেতে পারে। এ কারণে পুলিশ আপাতত উদ্ধার হওয়া অংশটির পরিচয় শনাক্তকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো খণ্ডিত অংশটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের পাশাপাশি পুলিশ আশপাশের এলাকা ও সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থল আম্বরখানা নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। দিনের বেশির ভাগ সময় সেখানে মানুষের চলাচল ও যানবাহনের চাপ থাকে। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও খাবারের দোকানের কারণে এলাকাটি সবসময়ই ব্যস্ত থাকে। এমন একটি জায়গার ময়লার স্তূপ থেকে মানুষের শরীরের খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এটিকে হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো অপরাধ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। উদ্ধার হওয়া অংশের পরিচয় এবং উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সম্ভাবনার ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি সহিদুর রহমান আরও জানিয়েছেন, পায়ের খণ্ডিত অংশটি কীভাবে সেখানে এল এবং এর সঙ্গে কোনো অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষা ও তদন্তের পর পায়ের অংশটির পরিচয় এবং সেটি ময়লার স্তূপে ফেলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও একটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—নগরীর সাধারণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে চিকিৎসাবর্জ্য মিশে যাচ্ছে কি না। কারণ চিকিৎসাবর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করা হলে তা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে এই মুহূর্তে উদ্ধার হওয়া অংশটি কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। তাই তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তথ্য উপস্থাপন করাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাতের নির্জন সময়ে ময়লার স্তূপে সাদা কাপড়ে মোড়ানো মানুষের খণ্ডিত পা উদ্ধারের ঘটনা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই এখন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল এবং তদন্তের পরই জানা যাবে, এটি কোনো রোগীর অস্ত্রোপচারের পর ফেলে দেওয়া শরীরের অংশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো ঘটনা।


