সুনামগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সুনামগঞ্জ জেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে জেলার সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে পরিবেশ সুরক্ষা, নদী রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব (এসএ) শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের স্বাক্ষরিত স্মারকে বলা হয়েছে, সুনামগঞ্জ জেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পরিবহন এবং এ-সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত নজরদারি পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩)-এর ৫(১) ধারা অনুযায়ী পাম্প, ড্রেজার বা অন্য কোনো যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভূগর্ভস্থ বালু কিংবা মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অনুযায়ী এসব পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এটি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, জীববৈচিত্র্য ও আশপাশের ভূপ্রকৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এ ছাড়া বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী কেবল অনুমোদিত বালুমহাল থেকে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বালু বা মাটি উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। জেলা প্রশাসকের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো অবস্থাতেই রাতের বেলায় বালু উত্তোলন করা যাবে না। প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলায় কাউকেই রাত্রিকালীন বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে রাতের অন্ধকারে পরিচালিত যেকোনো বালু উত্তোলন কার্যক্রম সরাসরি অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, শুধু উত্তোলন নয়, বালু পরিবহনের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। অনুমোদনহীন বা অবৈধ যানবাহনের মাধ্যমে বালু কিংবা মাটি পরিবহন করা যাবে না। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইন লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলন, পরিবহন বা সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকলে প্রচলিত আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসনের এ নির্দেশনার অনুলিপি ২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সুনামগঞ্জের অধিনায়ক, পুলিশ সুপার, নৌ পুলিশ সুপার, জেলা কমান্ড্যান্ট (আনসার ও ভিডিপি) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সুনামগঞ্জের নদ-নদী, হাওর এবং জলাভূমি অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ বহুবার উঠেছে। এতে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙন, কৃষিজমির ক্ষতি, সেতু ও অবকাঠামোর স্থায়িত্ব এবং জলজ পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, পরিকল্পনাহীন ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে মাছের প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যও নষ্ট হয়। ফলে আইন অনুযায়ী বালু উত্তোলন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি সময়ের দাবি।

স্থানীয় সচেতন মহলও জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, কেবল নির্দেশনা জারি করলেই হবে না; মাঠপর্যায়ে নিয়মিত অভিযান, অবৈধ ড্রেজার জব্দ, দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুনামগঞ্জের মতো নদী ও হাওরসমৃদ্ধ জেলার পরিবেশ রক্ষায় বালুমহাল ব্যবস্থাপনা আইনের যথাযথ প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে যেমন পরিবেশ রক্ষা সম্ভব হবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নদী ও হাওরের স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা সহজ হবে। তাই জেলা প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে অবৈধ বালু উত্তোলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

মৌলভীবাজারে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কানাইঘাটে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে টানটান উত্তেজনা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বন্দরবাজারের আবাসিক হোটেলে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের নতুন মুখ ডেভিড ইমন

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সোনালী ব্যাংক ও গোয়াইনঘাট কলেজের চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

কানাইঘাটে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে টানটান উত্তেজনা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বন্দরবাজারের আবাসিক হোটেলে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের নতুন মুখ ডেভিড ইমন

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সোনালী ব্যাংক ও গোয়াইনঘাট কলেজের চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাতাসের মাঝে গান শোনা নিয়ে প্রশ্ন ববি হাজ্জাজের

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ আগুনে ৬ বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: ২৮ জুলাই  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত: সিইসি

প্রকাশ:২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ