টানা বৃষ্টিতে সিলেটে টিলা ধস, ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেটজুড়ে টিলা ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আবহাওয়াবিদ এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কতা জারি করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অনেক মানুষ বসবাস অব্যাহত রেখেছেন। এরই মধ্যে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় একটি টিলা ধসের ঘটনা ঘটেছে। ধসে একটি বসতবাড়ির গার্ডওয়াল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং বাড়ির পেছনের অংশ ও বাথরুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা আহতের ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার (৯ জুলাই) সকাল প্রায় ১০টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের পূর্বভাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা এখনও মূল বসতঘরেই অবস্থান করছেন, যদিও এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

৭ নম্বর লক্ষণাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খলকুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি একটি টিলার ঢালের পাশে এবং রাস্তার সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত। দীর্ঘ সময়ের ভারী বর্ষণে টিলার মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় হঠাৎ করেই একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে বাড়ির নিরাপত্তার জন্য নির্মিত গার্ডওয়াল ভেঙে নিচে নেমে যায়। গার্ডওয়ালের সঙ্গে তলদেশের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাটিও সরে যাওয়ায় বাড়ির পেছনের অংশ ঝুঁকির মুখে পড়ে।

তিনি আরও জানান, ধসের কারণে বাড়ির বাথরুম এবং পেছনের কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মূল ভবনটি এখন পর্যন্ত অক্ষত রয়েছে। তবে যেকোনো সময় নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা থাকায় পরিবারটিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

চেয়ারম্যান বলেন, বর্ষা মৌসুমে টিলা-সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক পরিবার তাদের বসতবাড়ি ছেড়ে যেতে চান না। তাদের অনেকেই বলেন, বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় তারা কোথায় যাবেন। ফলে ঝুঁকি জেনেও অনেকে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন, যা ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি বড় ধরনের নয় এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিলা ও পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে যাতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী মানুষ প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে এলাকার বিভিন্ন টিলার মাটি নরম হয়ে গেছে। ছোটখাটো ফাটলও অনেক জায়গায় দেখা দিয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব বাড়ি টিলার ঢাল ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি টিলা সংরক্ষণ এবং নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেট অঞ্চলের মাটির গঠন এবং অতিবৃষ্টির কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে টিলা ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রাকৃতিকভাবে দুর্বল ঢালে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বসতবাড়ি নির্মাণ, গাছপালা কেটে ফেলা এবং মাটি কাটার মতো কর্মকাণ্ড এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেও টিলার মাটি আলগা হয়ে ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র সতর্কবার্তা প্রচার করাই যথেষ্ট নয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য বিকল্প নিরাপদ আশ্রয়, পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং টিলা সংরক্ষণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণও জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

সিলেটে অতীতেও টিলা ধসের ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই টিলা ও পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে প্রতিবছর প্রশাসন আগাম সতর্কতা জারি করলেও বাস্তবতার কারণে অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ছাড়তে অনিচ্ছুক থাকেন।

আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে আগামী দিনগুলোতেও টিলা ধসের ঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। তাই টানা বৃষ্টির সময় টিলার পাদদেশ, ঢাল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় অবস্থান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে কোথাও মাটিতে ফাটল, মাটি সরে যাওয়া বা ধসের পূর্বাভাস দেখা দিলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন। নতুন করে কোনো ধসের আশঙ্কা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রশাসনের আশা, জনগণের সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে বর্ষা মৌসুমে টিলা ধসজনিত দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

মৌলভীবাজারে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কানাইঘাটে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে টানটান উত্তেজনা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বন্দরবাজারের আবাসিক হোটেলে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের নতুন মুখ ডেভিড ইমন

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সোনালী ব্যাংক ও গোয়াইনঘাট কলেজের চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

কানাইঘাটে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে টানটান উত্তেজনা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বন্দরবাজারের আবাসিক হোটেলে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের নতুন মুখ ডেভিড ইমন

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সোনালী ব্যাংক ও গোয়াইনঘাট কলেজের চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাতাসের মাঝে গান শোনা নিয়ে প্রশ্ন ববি হাজ্জাজের

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ আগুনে ৬ বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: ২৮ জুলাই  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত: সিইসি

প্রকাশ:২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ