সিলেটে আবুল হত্যা মামলায় দুই আসামি গ্রেফতার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ট্রাক শ্রমিক আবুল হোসেন হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মামলার ১১ নম্বর আসামি খাগাইল গ্রামের মজফর আলীর ছেলে কুটু মিয়া (৫৫) এবং ১২ নম্বর আসামি একই গ্রামের উমেদ আলীর ছেলে আব্দুর রহমানকে (৬৫) গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে থাকলেও অবস্থান গোপন করে চলছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৮ জুন) কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন চন্দ্র কর্মকারের তত্ত্বাবধানে এসআই জগৎ জ্যোতি দাস, এসআই নাজমুল হক মামুন, এএসআই নোমান মিয়া এবং সঙ্গীয় ফোর্স বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের মাধ্যমে হত্যা মামলার পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান। তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সহজ ছিল না। একাধিক স্থানে নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের গতিবিধি অনুসরণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন চন্দ্র কর্মকার জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তারা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন এবং নিজেদের অবস্থান গোপন রাখার চেষ্টা করছিলেন। তবে তথ্যপ্রযুক্তি এবং নির্ভরযোগ্য সোর্সের সহায়তায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, আবুল হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আবুল হোসেন ছিলেন একজন ট্রাক শ্রমিক এবং পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর সংকটে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার খাগাইল এলাকায় একদল সন্ত্রাসীর হামলার শিকার হন গৌরীনগর গ্রামের বাসিন্দা আক্রম আলীর ছেলে আবুল হোসেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও অবস্থা ক্রমেই অবনতি হতে থাকে। টানা ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আবুল হোসেনের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী পরে বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয় এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা শুরু থেকেই দ্রুত বিচার এবং জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, আসামিরা পলাতক থাকায় তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই গ্রেফতারকে তারা মামলার অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে তারা বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। একজন শ্রমজীবী মানুষের জীবন এভাবে সহিংসতার শিকার হওয়া সমাজে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, ঘটনার পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মামলার তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আবুল হোসেনের পরিবার এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তিনি ছিলেন সংসারের প্রধান ভরসা। তার আকস্মিক মৃত্যু শুধু আবেগগত নয়, অর্থনৈতিকভাবেও পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। পরিবারের প্রত্যাশা, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং অপরাধীরা যথাযথ শাস্তি পাবে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে। পুলিশ আশা করছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে এবং নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

মৌলভীবাজারে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কানাইঘাটে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে টানটান উত্তেজনা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বন্দরবাজারের আবাসিক হোটেলে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের নতুন মুখ ডেভিড ইমন

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সোনালী ব্যাংক ও গোয়াইনঘাট কলেজের চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

কানাইঘাটে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে টানটান উত্তেজনা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বন্দরবাজারের আবাসিক হোটেলে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের নতুন মুখ ডেভিড ইমন

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সোনালী ব্যাংক ও গোয়াইনঘাট কলেজের চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাতাসের মাঝে গান শোনা নিয়ে প্রশ্ন ববি হাজ্জাজের

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ আগুনে ৬ বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: ২৮ জুলাই  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত: সিইসি

প্রকাশ:২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ