জৈন্তাপুরের লাল শাপলা বিলে হচ্ছে ওয়াকওয়ে-রিসোর্ট

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাহাড়, নদী, ঝরনা আর সবুজ চা-বাগানের ছবি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে নতুন এক আকর্ষণের নাম হয়ে উঠেছে জৈন্তাপুরের লাল শাপলা বিল। শীত মৌসুম এলেই ভারত সীমান্তঘেঁষা ডিবির হাওর ও কেন্দ্রি বিলজুড়ে ফুটে ওঠে হাজার হাজার লাল শাপলা। পানির বুকে লাল রঙের বিস্তৃত এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন এক স্বপ্নরাজ্যের আবহ তৈরি করে। ভোরের কুয়াশা আর সূর্যের কোমল আলোয় শাপলার এই অপার সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা।

এবার সেই পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও পরিকল্পিত ও আকর্ষণীয় রূপ দিতে বড় উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা এসেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, জৈন্তাপুরের লাল শাপলা বিলকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে এবং পরিবেশবান্ধব ইকো রিসোর্ট। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেটের পর্যটন খাতে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শাপলা বিলের চারপাশে এমনভাবে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে, যাতে পর্যটকরা বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, কিন্তু পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়। একই সঙ্গে ছোট ছোট ইকো রিসোর্ট ও কটেজ তৈরি করা হবে, যেখানে পর্যটকরা রাতযাপন করতে পারবেন।

মন্ত্রী আরও জানান, ভোরের প্রথম আলোয় লাল শাপলার সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়। তাই পর্যটকদের জন্য এমন ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে তারা রাত কাটিয়ে খুব কাছ থেকে প্রকৃতির এই অনন্য রূপ দেখতে পারেন। তার ভাষায়, “আমরা চাই মানুষ প্রকৃতিকে ভালোবাসুক, উপভোগ করুক, কিন্তু সেই সঙ্গে সংরক্ষণও করুক। তাই এখানে উন্নয়ন হবে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত কয়েক বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জৈন্তাপুরের লাল শাপলা বিলের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে ভোরবেলা বিল এলাকায় মানুষের ভিড় দেখা যায়। অনেকেই পরিবার নিয়ে আসেন, কেউ আবার ফটোগ্রাফি কিংবা ভিডিও কনটেন্ট তৈরির জন্য ভ্রমণ করেন। তবে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় পর্যটকদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে এই অঞ্চল দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইকো-ট্যুরিজম স্পটে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ হলে পর্যটকরা নিরাপদে ও আরামদায়কভাবে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি ছোট আকারের পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট তৈরি হলে পর্যটন খাতের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।

জৈন্তাপুরের এই অঞ্চলটি কেবল শাপলা বিলের জন্যই নয়, আশপাশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের কারণেও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। এখান থেকে খুব সহজেই ঘুরে আসা যায় জাফলং, লালাখাল, শ্রীপুর, রাঙপানি এবং সীমান্তবর্তী আরও কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্রে। ফলে শাপলা বিলকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিট গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ইকো রিসোর্ট নির্মাণ করা হলে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সুযোগও তৈরি হবে। বর্তমানে অনেক ভ্রমণপিপাসু মানুষ প্রকৃতিনির্ভর ও শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে আগ্রহী। শহরের কোলাহল থেকে দূরে বিলের পাশে কাঠের কটেজে রাত কাটানো এবং ভোরে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করা হতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

তবে পরিবেশবিদরা বলছেন, উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সময় অবশ্যই প্রাকৃতিক ভারসাম্যের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ অপরিকল্পিত পর্যটন কার্যক্রম অনেক সময় জলজ উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তারা মনে করছেন, শাপলা বিলের সৌন্দর্য রক্ষা করতে হলে প্লাস্টিকবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, শব্দদূষণ রোধ এবং পর্যটকদের সচেতন করার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও জানিয়েছেন, শুধু পর্যটন উন্নয়ন নয়, লাল শাপলা বিল সংরক্ষণেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য নষ্ট করে কোনো উন্নয়ন নয়; বরং এমন উন্নয়নই করা হবে যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই প্রাকৃতিক সম্পদ উপভোগ করতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, নৌভ্রমণ, স্থানীয় হস্তশিল্প ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য গাইডিং ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট নানা পেশার সুযোগ বাড়বে।

সিলেটের পর্যটন খাত ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। রত্না নদী, চা-বাগান, পাহাড়ি ঝরনা ও সীমান্তঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এখন জৈন্তাপুরের লাল শাপলা বিলও যুক্ত হয়েছে সেই তালিকায়। পরিকল্পিত উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বয় ঘটাতে পারলে এটি শুধু সিলেট নয়, গোটা দেশের পর্যটন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, ঘোষণার মধ্যেই যেন পরিকল্পনা সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জৈন্তাপুরের লাল শাপলা বিলকে দেশের অন্যতম নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে—এমন আশাই সবার।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

মৌলভীবাজারে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কানাইঘাটে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে টানটান উত্তেজনা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বন্দরবাজারের আবাসিক হোটেলে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের নতুন মুখ ডেভিড ইমন

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সোনালী ব্যাংক ও গোয়াইনঘাট কলেজের চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

কানাইঘাটে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে টানটান উত্তেজনা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বন্দরবাজারের আবাসিক হোটেলে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের নতুন মুখ ডেভিড ইমন

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সোনালী ব্যাংক ও গোয়াইনঘাট কলেজের চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাতাসের মাঝে গান শোনা নিয়ে প্রশ্ন ববি হাজ্জাজের

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ আগুনে ৬ বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: ২৮ জুলাই  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত: সিইসি

প্রকাশ:২৮ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ