প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে দোকানপাট, শপিং মল ও বিপণিবিতান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সাময়িক অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকে দেশের দোকানপাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আগে নির্ধারিত সময়সূচি পুনরায় কার্যকর হওয়ায় ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও বিপণিবিতানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও পরিবর্তন আসবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ৫ অক্টোবর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই বিশেষ ব্যবস্থার মেয়াদ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) শেষ হয়েছে। তাই শুক্রবার থেকে দোকানপাট খোলা ও বন্ধের সময় আগের নিয়মে ফিরে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ১১টায় দোকানপাট খোলা যাবে এবং রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চলতি বছর একাধিকবার দোকানপাট বন্ধের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতি, উৎসব এবং ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে সময়সীমা বাড়ানো বা কমানো হয়। তবে সর্বশেষ সাময়িক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন থেকে আবার রাত ৮টার মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে।
দোকানপাট বন্ধের নির্ধারিত সময় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অফিস শেষে কেনাকাটা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ কিংবা পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে অনেকেই সন্ধ্যার পর বাজারে যান। রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হলে ক্রেতাদের কেনাকাটার পরিকল্পনায় সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন, পণ্য বিক্রি এবং দিনের শেষের হিসাব-নিকাশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার প্রস্তুতি নিতে হবে।
দুর্গাপূজার সময় কেনাকাটার চাহিদা বাড়ে বলে দোকানপাট ও বিপণিবিতানগুলোকে অতিরিক্ত সময় খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করা এবং ক্রেতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু অনুমতির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন আর রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সেই ছাড় কার্যকর থাকছে না।
চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে জ্বালানি সংকটের কারণে দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আসে। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দোকান বন্ধের সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়। এরপর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সাময়িকভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে জুন মাসে দোকানপাট বন্ধের সময় কমিয়ে রাত ৯টা করা হয়। এরপর ১২ আগস্ট থেকে রাত ৮টার মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা কার্যকর হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে আবারও রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হলেও ২২ অক্টোবর সেই অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে ২৩ অক্টোবর থেকে আগের সময়সূচি পুনর্বহাল করা হলো।
দোকানপাটের সময়সূচিতে বারবার পরিবর্তনের কারণে ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম পরিকল্পনা করে পরিচালনা করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে, তাদের বিক্রির সময় ব্যবস্থাপনায় বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ করার পাশাপাশি ক্রেতাদেরও কেনাকাটার জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বাজারে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণের ক্ষেত্রে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। দোকানপাট, শপিং মল ও বিপণিবিতানে আলো, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। নির্ধারিত সময়ের বাইরে এসব প্রতিষ্ঠান চালু থাকলে বিদ্যুতের ব্যবহারও বাড়তে পারে। তবে সময়সূচি পরিবর্তনের ফলে মোট কতটুকু বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়সীমা কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা সম্পর্কে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। উৎসব বা বিশেষ উপলক্ষে সময় বাড়ানো হলে সেটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্যই প্রযোজ্য থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো অনুমতি না থাকলে আগের নিয়মে ফিরে যেতে হয়। এ ক্ষেত্রেও ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি ছিল; ২৩ অক্টোবর থেকে রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার নিয়ম পুনরায় কার্যকর হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দোকানপাটের সময়সূচি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত সময় মেনে কার্যক্রম পরিচালনা এবং ক্রেতাদের সময় বিবেচনা করে কেনাকাটা করার মাধ্যমে নতুন সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হতে পারে। আপাতত নতুন কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট খোলা রাখার নিয়মই কার্যকর থাকবে।


