প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত যুবদল নেতা বদরুল আলমের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত এবং অভিযোগপত্র প্রস্তুতের প্রতিটি ধাপে সতর্কতা অবলম্বন করে কোনো ধরনের ফাঁকফোকর না রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে গোয়াইনঘাটে নিহত বদরুল আলমের বাড়িতে যান আরিফুল হক চৌধুরী। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সান্ত্বনা দেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। স্বজন হারানোর বেদনায় বিপর্যস্ত পরিবারের সদস্যদের কাছে এ সময় ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, অপরাধে জড়িত কেউ যেন আইনের আওতা থেকে রেহাই না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তদন্ত থেকে শুরু করে অভিযোগপত্র দাখিল পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, মামলার তদন্ত হতে হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও তথ্য-প্রমাণনির্ভর। তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের মান ও স্বচ্ছতা বজায় রাখাও জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমদ, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ওমর ফারুক মোড়ল, গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ১ নম্বর রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন শিহাব, রুস্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউনুছ আলী, সহসভাপতি আব্দুল গনি ও সাধারণ সম্পাদক ইমাম উদ্দিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।
ব্যবসায়িক কাজে গিয়ে হামলার শিকার
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর রাতে ব্যবসায়িক কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনরতল বাজারে গিয়েছিলেন বদরুল আলম ও তাঁর সহযোগী সাদেক আহমদ। তাঁদের সঙ্গে নগদ ৩০ লাখ টাকা এবং ২৯টি গরু ছিল বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে তাঁরা রুস্তমপুর ইউনিয়নের গুরাগ্রাম এলাকার একটি দীঘিসংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁদের পথরোধ করে। হামলাকারীরা নগদ টাকা ও গরু ছিনিয়ে নেয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
নিহত বদরুল আলমের ভাই মাওলানা আখলাকুল আম্বিয়া এবং আহত সাদেক আহমদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলায় বদরুল ও সাদেক দুজনই গুরুতর আহত হন। তাঁদের অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি হবে।
পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার পর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। পরে স্থানীয় পথচারীদের মাধ্যমে স্বজনেরা ঘটনার খবর পান। আহত দুজনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সাদেক আহমদ চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটির পর থেকে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক এবং উদ্বেগ বিরাজ করছে। একজন স্বজনকে হারানোর বেদনার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রয়েছে তাঁদের। বিশেষ করে আহত সাদেক আহমদের চিকিৎসা এবং তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তদন্তে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা
বদরুল আলম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মন্ত্রীর নির্দেশের মূল বিষয় হলো দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করা এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। তবে দ্রুততার পাশাপাশি তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে হবে।
কোনো হত্যাকাণ্ডের পর স্বজনদের মধ্যে বিচার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এ পরিস্থিতিতে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আইনানুগভাবে তথ্য জানানো এবং অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান পরিবারের আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগেভাগে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করা জরুরি।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিহতের পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেছেন, তাঁদের প্রয়োজনে পাশে থাকবেন। তাঁর এই সাক্ষাৎ ও নির্দেশের পর এখন পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও প্রত্যাশা, তদন্ত দ্রুত এগোবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে নির্ধারিত হবে।
গোয়াইনঘাটের এ হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তদন্তকারী সংস্থার কার্যকর ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্যরা চান, তাঁদের স্বজনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক এবং অভিযোগপত্রে যেন তথ্য-প্রমাণের যথাযথ প্রতিফলন থাকে। তদন্তের ফলাফল ও আইনানুগ বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তাঁদের সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন সম্ভব।


