প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০-তে পৌঁছেছে। দীর্ঘ কয়েক দিন মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকার পর গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৯৪ জন রোগী। সব মিলিয়ে বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৩২ জন। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ, অপুষ্টি এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে এসব বিষয় জানা গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিন শিশুর চিকিৎসা চলছিল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ছয় মাস, এক বছর ও তিন মাস। নিহত শিশুদের মধ্যে দুজনের বাড়ি সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় এবং অন্য শিশুটির বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়।
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের এমন মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই পরিবারগুলোর জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে হাম মোকাবিলায় টিকাদান, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে ছয় মাস ও এক বছর বয়সী শিশুর পাশাপাশি মাত্র তিন মাস বয়সী শিশুর মৃত্যুর ঘটনা শিশুস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং সংক্রমণ মোকাবিলায় সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ তিনজনের মৃত্যু যুক্ত হওয়ায় সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০০-তে। মৃতদের অধিকাংশই শিশু। এ ছাড়া তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যুর তথ্যও রয়েছে। তবে মোট মৃত্যুর এই পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। কারণ, উপসর্গের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা এক নয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। সেই বিরতির পর আবার তিন শিশুর মৃত্যু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও এক দিনের মৃত্যুর সংখ্যা দিয়ে সংক্রমণের সামগ্রিক প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না, তবু হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি এবং চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৩২ জনের মধ্যে কতজনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে এবং কতজনের ক্ষেত্রে উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসা চলছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিভাজন প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ নেই। রোগীদের বয়স, শারীরিক অবস্থা, টিকাদানের ইতিহাস এবং জটিলতার ধরন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতির প্রকৃতি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হবে।


