সিলেটের ৫৫ বছরের উন্নয়ন ৩-৪ বছরে শেষের পরিকল্পনা

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেট নগরীর দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। গত ৫৫ বছরে নগরীতে যে পরিমাণ সড়ক উন্নয়ন হয়েছে, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বাকি সড়কগুলোর উন্নয়নকাজ শেষ করার লক্ষ্যে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে নগরীর পানি সংকট নিরসন, ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজের সংস্কার ও পাশেই নতুন দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই, চা-বাগান এলাকায় সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয় স্থাপন এবং হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় ও অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনি নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি, নাগরিক সুবিধা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে আনুমানিক সাড়ে ৪৫০ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন হয়েছে। বাকি রয়েছে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক। এত বিপুল পরিমাণ সড়ক উন্নয়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে বড় আকারের একটি প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, গত ৫৫ বছরে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে, সেই পরিমাণ কাজ আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আকারের প্রকল্প নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর অবশিষ্ট সড়কগুলোর নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে হাত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সিলেটের নগরজীবনে সড়ক যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সড়কের অবস্থা ভালো না হলে যান চলাচল, পণ্য পরিবহন, কর্মস্থলে যাতায়াত এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণে নাগরিকদের ভোগান্তি বাড়ে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকা, ভাঙাচোরা সড়ক এবং যানজট নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন নগরবাসীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রকল্পের ব্যয়, অর্থায়নের উৎস, অনুমোদনের সময়সীমা এবং কাজ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সিলেট নগরীর আরেকটি দীর্ঘদিনের সমস্যা পানির সংকট। এ সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশনের অধীনে একটি বড় প্রকল্প জমা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নদীর পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নগরবাসীর চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, টিউবওয়েলের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় সুরমা, কুশিয়ারা ও চেঙ্গেরখাল থেকে পানি সংগ্রহ করে পরিশোধনের পর ব্যবহারের উপযোগী করার লক্ষ্যে নতুন একটি বড় প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

নগরীতে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। পানির চাহিদা পূরণে ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে পানির স্তর সংরক্ষণে সহায়তা হতে পারে। তবে নদীর পানি সংগ্রহ ও পরিশোধন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পানির গুণমান, পরিশোধনাগারের সক্ষমতা, সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশিত হলে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হওয়ায় এর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুরোনো সেতুর পাশেই একটি দৃষ্টিনন্দন নতুন সেতু নির্মাণ করা যায় কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

কিন ব্রিজ সিলেট নগরীর পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর একটি। সুরমা নদীর ওপর নির্মিত এ সেতু দীর্ঘদিন ধরে নগরীর যোগাযোগব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে এর কাঠামোগত নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং যান চলাচলের উপযোগিতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুরোনো সেতুর সংস্কার এবং নতুন সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন সেতুর নকশা, অবস্থান, ব্যয় কিংবা নির্মাণের সময়সূচি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

নগর ও নগরের বাইরের বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শীত মৌসুম থেকে এসব কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়িত হলে সিলেটের সড়ক যোগাযোগের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি নগরীর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যা নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সিলেট সিটি করপোরেশনের কাষ্টঘর এলাকায় বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজে তাঁদের ঘরে গিয়ে বসবাসের পরিস্থিতি দেখেছেন। একই কক্ষে বাবা-মা, সন্তান ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বসবাসের কারণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, এ জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা করতে ভবিষ্যতে একটি পরিকল্পনা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। তাঁদের জন্য এমন আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে তাঁরা তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন এবং স্বাভাবিক সামাজিক জীবনযাপনের সুযোগ পাবেন।

হরিজন সম্প্রদায়ের আবাসন সমস্যা শুধু বাসস্থানের সংকট নয়; এর সঙ্গে স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি, পয়োনিষ্কাশন এবং সামাজিক মর্যাদার বিষয়ও জড়িত। ঘনবসতিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে হলে শিশু, প্রবীণ ও অন্যান্য বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন কঠিন হয়ে ওঠে। তাই পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হলে সেখানে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্পের জমি, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

চা-বাগান এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি নির্বাচনী এলাকার মধ্যেই ১২টি চা-বাগান রয়েছে। এসব এলাকায় সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকার শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হলে তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিকাশে সহায়ক হতে পারে। বিদ্যালয় দূরে হলে যাতায়াতের অসুবিধা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবারের শিশুদের নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের বাধা কমানো সম্ভব। তবে কোন কোন চা-বাগানে বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে এবং কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিটি করপোরেশন মানবকল্যাণে কাজ করে এবং নগরবাসীকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ধর্মীয় উৎসব পালনে সহযোগিতা করাও প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব। তিনি জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে এবারও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসক বলেন, সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের দিকনির্দেশনায় এবার পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। নগরবাসী যাতে সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। তিনি আরও জানান, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যেকোনো প্রয়োজনে পূজামণ্ডপ ও মন্দির কমিটির প্রতিনিধিদের সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।

অনুষ্ঠানে নগরীর ৮৫টি দুর্গাপূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৩৪ লাখ টাকা অনুদান তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। দুর্গাপূজা আয়োজনের প্রস্তুতি, ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে এ অর্থ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে হওয়া চুক্তির বিষয়েও বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, টার্মিনালের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই চুক্তিটি করা হয়েছে। চুক্তিটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য; মেয়াদ শেষে বাংলাদেশ চাইলে তা নবায়ন করতে পারবে, অথবা চুক্তির সমাপ্তি ঘটাতে পারবে।

মন্ত্রী চুক্তিটিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলার সমালোচনা করে একে অমূলক মন্তব্য হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ও বিদেশে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যয় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে আসা প্রয়োজন। এ লক্ষ্য অর্জনে বন্দরের কার্যকারিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তিটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনায় এসেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার নিশ্চিত হয়েছে যে চুক্তির কারণে বন্দরে কর্মরত কর্মীদের কেউ চাকরি হারাবেন না। বরং দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে তাঁদের সুযোগ-সুবিধা ও পারিশ্রমিক বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানির বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, চীন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে অন্যতম প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক। অন্যদিকে ভিয়েতনামের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য সুবিধা থাকায় দেশটি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গেছে। কখনো ভিয়েতনাম বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়েছে, আবার কখনো বাংলাদেশ সেই অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকেরা আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। এ জন্য উৎপাদন ব্যয়, রপ্তানি ব্যয় এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ, সড়ক যোগাযোগ, আবাসন, শিক্ষা ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নগরীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে এসব পরিকল্পনার বাস্তব সুফল নির্ভর করবে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা এবং স্বচ্ছ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর। নগরবাসীর প্রত্যাশা, ঘোষিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে সিলেটের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কমবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

ওসমানীনগরে তিন গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৬

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটের ধর্মীয় সম্প্রীতি আমাদের অনন্য সম্পদ: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট সীমান্তে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার পণ্য জব্দ

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আনোয়ারুজ্জামানের সাবেক এপিএসের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

ওসমানীনগরে তিন গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৬

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটের ধর্মীয় সম্প্রীতি আমাদের অনন্য সম্পদ: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট সীমান্তে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার পণ্য জব্দ

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আনোয়ারুজ্জামানের সাবেক এপিএসের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বন্দর চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রি’ বলা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে ট্রেনের টিকিটে নামের অমিল হলে যাত্রা বন্ধ

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মাহদী হাসানকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি বিমানবন্দরে

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ