সাদিক কায়েমের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন মাদানীর

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, পোশাক এবং এসব আয়োজনকে প্রকাশ্যে উপস্থাপনের ধরন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে দেশের আলেমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মাদানী।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। সেখানে ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েমের বিজয়ের পর নিজের উচ্ছ্বাসের কথাও উল্লেখ করেন মাদানী। তবে পরবর্তী সময়ে ডাকসুর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে কিছু বিষয় তাঁর কাছে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের মূল অংশগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম মাদানী তাঁর পোস্টে জানান, ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েম জয়ী হওয়ার পর তিনি আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন এবং নির্বাচনের ফলাফল জানার জন্য রাত জেগে ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ওই বিজয়কে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তির অগ্রগতি এবং নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং জুলাইয়ের আন্দোলনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি তখন সাদিক কায়েমের নেতৃত্বকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিলেন বলে জানান।

ডাকসুর নেতৃত্বে সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসাও করেছেন মাদানী। তাঁর পোস্টে সিট বাণিজ্য বন্ধ, যোগ্যতার ভিত্তিতে আসন দেওয়ার উদ্যোগ, বৃষ্টির সময়ে ছাত্রীদের জন্য ভ্যানের ব্যবস্থা, আলাদা বাস এবং গরমের সময়ে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার মতো বিষয়কে প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এসব কার্যক্রমকে তিনি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সুবিধা ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশের উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন।

তবে তাঁর প্রশ্ন, প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি একজন মুসলিম হিসেবে ধর্মীয় ও নৈতিক বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন কি না। তিনি তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধার বাইরে ইসলামী বিধানের গুরুত্বের বিষয়টি সামনে আনেন।

বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রসঙ্গটি তাঁর বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে। মাদানীর মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি ইসলামি প্রতিষ্ঠান নয় এবং সেখানে সব নারী শিক্ষার্থী পর্দা করেন না—এ বাস্তবতার কারণে নারীদের খেলাধুলা নিয়ে আপত্তি তোলাই তাঁর মূল বক্তব্য নয়। বরং তিনি আপত্তি জানিয়েছেন খেলাধুলার সময় ব্যবহৃত পোশাক এবং আয়োজনগুলোকে প্রকাশ্যে উৎসাহ ও গর্বের সঙ্গে উপস্থাপনের বিষয়টি নিয়ে।

তিনি দাবি করেন, কিছু আয়োজনে নারী শিক্ষার্থীদের শর্ট প্যান্ট ও টাইট পোশাক পরে খেলাধুলার বিষয়টি প্রকাশ্যে প্রচার করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমস্যাটি খেলাধুলার অস্তিত্বে নয়; বরং এ ধরনের পোশাক ও উপস্থাপনাকে কীভাবে সামাজিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, সেটিই তাঁর প্রশ্নের জায়গা।

এ প্রসঙ্গে আয়োজকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একটি আয়োজনে ‘আরমান’ নামে একজন আয়োজককে হাততালি দেওয়ার আহ্বানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাদানী বলেন, তাঁর আপত্তির জায়গা মূলত সেখানেই। তাঁর মতে, ডাকসুর নেতৃত্বের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের প্রত্যাশা ও অনুসরণের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে নেতৃত্বের মাধ্যমে কোনো কার্যক্রম প্রকাশ্যে প্রশংসিত বা উৎসাহিত হলে তার সামাজিক ও নৈতিক প্রভাবও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

রফিকুল ইসলাম মাদানী আরও বলেন, সাদিক কায়েমকে অনেক নারী শিক্ষার্থী অনুসরণ করেন এবং তাঁকে নেতা হিসেবে দেখেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ইসলামি বক্তা ও আলেমের সঙ্গে সাদিক কায়েমের প্রকাশ্য যোগাযোগের বিষয়টিও তিনি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন। এ কারণে তাঁর মতে, সাদিক কায়েমের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ধর্মীয় ব্যক্তিদের অবস্থানকে অনেকে মিলিয়ে দেখতে পারেন।

এই জায়গা থেকেই আলেমদের আরও স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব তরুণ-তরুণী সাদিক কায়েমকে অনুসরণ করেন, তাদের কাছে আলেমদের বক্তব্য সবসময় সরাসরি পৌঁছায় না। তাই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পোশাক, খেলাধুলা ও প্রকাশ্য সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আলেমদের পরিষ্কার অবস্থান তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

মাদানী তাঁর পোস্টে কয়েকজন ইসলামি বক্তার নাম উল্লেখ করে তাঁদের প্রতি এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য হিসেবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাই যেন বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক হন এবং ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের অবস্থান বিবেচনা করেন।

পোশাক ও নারীদের খেলাধুলা নিয়ে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি ডাকসুর সামগ্রিক ভূমিকা নিয়েও একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রশ্ন তুলেছেন মাদানী। তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বা নেতৃত্বের মূল্যায়ন শুধু উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে করা উচিত নয়; বরং সংশ্লিষ্টদের আদর্শিক অবস্থান ও নীতিগত বিষয়ও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধের সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে আনেন।

তাঁর পোস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে মাদানী বলেন, অতীতে শুধু উন্নয়নকে বিবেচনায় না নিয়ে রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের ভিত্তিতেও বিভিন্ন পক্ষকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। একইভাবে বর্তমান সময়েও উন্নয়ন বা প্রশাসনিক সাফল্যের পাশাপাশি আদর্শ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মাদানী। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কোনো রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নিজেদের প্রগতিশীল হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে যদি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে গুরুত্বহীন করে ফেলে, তাহলে সেই রাজনৈতিক ক্ষমতা ধর্মীয় মূল্যবোধের পক্ষে কার্যকর হবে না। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম মাদানীর বক্তব্য প্রকাশের পর বিষয়টি ডাকসুর নেতৃত্ব, নারী শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, পোশাক এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বহুমাত্রিক শিক্ষাঙ্গনে ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস, শিক্ষার্থীদের অধিকার, খেলাধুলা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা হবে—সেটিও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। সাদিক কায়েম ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে একাধিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। নারী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চার জন্য আধুনিক জিমনেসিয়াম নির্মাণের উদ্যোগের কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।

তবে রফিকুল ইসলাম মাদানীর সর্বশেষ বক্তব্য মূলত তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তাঁর উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর বিষয়ে সাদিক কায়েম বা ডাকসু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের জবাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এলে বিতর্কের বিভিন্ন দিক আরও পরিষ্কার হতে পারে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

চূড়ান্ত সুপারিশের পরও নিয়োগপত্র নেই বানিয়াচংয়ের ৯ জনের

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

২০২৭ বিশ্বকাপই শেষ, জানিয়ে দিলেন বিরাট কোহলি

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হচ্ছে এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শিগগিরই পরিদর্শন

প্রকাশ:২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

দেশের সব হাটবাজারে সৌর বিদ্যুতের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে ৩০ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি, ৮০ আয়োজনে অংশ

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

চূড়ান্ত সুপারিশের পরও নিয়োগপত্র নেই বানিয়াচংয়ের ৯ জনের

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

২০২৭ বিশ্বকাপই শেষ, জানিয়ে দিলেন বিরাট কোহলি

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হচ্ছে এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শিগগিরই পরিদর্শন

প্রকাশ:২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

দেশের সব হাটবাজারে সৌর বিদ্যুতের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে ৩০ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি, ৮০ আয়োজনে অংশ

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

২০২৯ সালের জুনে প্রস্তুত হবে ঢাকা-সিলেট ছয় লেন

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ওসমানী বিমানবন্দরে আনসারের গুলিতে কর্মী আহত

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাতিসংঘে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলে জাইমা রহমান

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ