সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে আবেদন

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজিজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মামলার আসামি আজিজ আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়ে এনসিবিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বাইরে অবস্থান করা পলাতক আসামিকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগোল।

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, এই মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধেও ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির উদ্যোগ আগে নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় দেশের বাইরে থাকা আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সমাবেশকারীদের সরিয়ে দিতে রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ থেকে ঘটনার ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা ও হতাহতের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুনরায় তদন্ত শুরু করে প্রসিকিউশন। তদন্তে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয় বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের ২৭ জুলাই প্রসিকিউশন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই তালিকায় অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজিজ আহমেদের নামও রয়েছে।

এখন সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার অংশ হিসেবেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোনো আসামি বিদেশে অবস্থান করলে তাকে সরাসরি গ্রেপ্তার করার এখতিয়ার থাকে না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কাঠামোর মধ্যে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়। রেড নোটিসের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত ও অস্থায়ীভাবে আটক করার বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করা হতে পারে। তবে রেড নোটিস নিজে কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়; সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হয়।

আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার পাশাপাশি তার সাবেক সামরিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়েও অতীতে নানা আলোচনা হয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৪ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে এবং তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তখন আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে। আজিজ আহমেদ অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের বর্তমান উদ্যোগটি অবশ্য ভিন্ন প্রেক্ষাপটের। এটি শাপলা চত্বরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে রেড নোটিস জারির উদ্যোগ সফল হলে বিদেশে অবস্থানরত সাবেক সেনাপ্রধানের অবস্থান শনাক্ত ও তাকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই মামলাটির অগ্রগতি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনগত মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এত বছর পর ওই ঘটনার অভিযোগগুলো কীভাবে তদন্ত ও বিচারিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগের পাশাপাশি আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতাই শেষ পর্যন্ত মামলার বিচারিক ফল নির্ধারণ করবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধের মামলায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা মানেই তিনি অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন—এমন নয়। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য, নথি, ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। এ কারণে আজিজ আহমেদসহ মামলার প্রত্যেক আসামির ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ ফল না আসা পর্যন্ত আইনের দৃষ্টিতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

এদিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়ার খবরটি মামলাটির আন্তর্জাতিক মাত্রাকেও সামনে এনেছে। দেশের বাইরে থাকা আসামিদের ক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থা ও প্রসিকিউশনের জন্য তাদের অবস্থান শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ এবং প্রত্যাবাসনের আইনি পথ তৈরি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, আজিজ আহমেদের পাশাপাশি এই মামলার আরেক আসামি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধেও রেড নোটিস জারির বিষয়ে আগে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ট্রাইব্যুনালের মামলায় পলাতক আসামিদের অবস্থান দেশের বাইরে হলে তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নেওয়ার কৌশল অনুসরণ করছে প্রসিকিউশন।

শাপলা চত্বরের ঘটনার এক যুগেরও বেশি সময় পর নতুন করে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রত্যাশাও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করার দাবিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি দীর্ঘ সময় পর কোনো পুরোনো ও বিতর্কিত ঘটনার বিচার শুরু হলে প্রত্যাশা থাকে—রাজনৈতিক অবস্থান বা পরিচয়ের বাইরে গিয়ে প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য উদঘাটিত হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এখন আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারির আবেদন সেই বিচারপ্রক্রিয়ারই পরবর্তী ধাপ। এনসিবির মাধ্যমে ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগের পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া এবং তিনি কোন দেশে অবস্থান করছেন তার ওপর। শেষ পর্যন্ত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়। তবে চিঠি পাঠানোর মধ্য দিয়ে শাপলা চত্বরের মামলায় বিদেশে অবস্থানরত অন্যতম আলোচিত আসামিকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার প্রচেষ্টা আনুষ্ঠানিকভাবে আরও দৃশ্যমান হলো।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

বাংলাদেশসহ তিন দেশ ভারতভুক্ত হবে: রামদেব

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার বার্তা

প্রকাশ:  ১৮ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি

প্রকাশ:  ১৮ অগাস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ঢাকার কোথায় বসতে পারবেন নিবন্ধিত হকাররা

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

যুক্তরাজ্যে গুলিতে প্রাণ গেল সিলেটের মাছুমের

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

বাংলাদেশসহ তিন দেশ ভারতভুক্ত হবে: রামদেব

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার বার্তা

প্রকাশ:  ১৮ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি

প্রকাশ:  ১৮ অগাস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ঢাকার কোথায় বসতে পারবেন নিবন্ধিত হকাররা

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

যুক্তরাজ্যে গুলিতে প্রাণ গেল সিলেটের মাছুমের

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুনামগঞ্জে ২০ মাসের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

২০ ঘণ্টা পর থানা থেকে ছাড়া পেলেন মাহদী

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

তাহমিনার বয়স নিয়ে নতুন প্রশ্ন, তদন্তে ধোঁয়াশা

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ