প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সিলেটের এক প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত মাছুম আহমদ (৪০) সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার আমির আলীর ছেলে। স্থানীয় সময় সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে পূর্ব লন্ডন এলাকায় গুলির এই ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মাছুমের মৃত্যুর খবর মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশে পৌঁছালে সিলেটের বিশ্বনাথে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রবাসে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও স্বজনেরা একে একে মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। আকস্মিক এই ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা।
নিহতের ছোট ভাই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মানিক মিয়া জানান, লন্ডনের স্থানীয় সময় ভোররাতে হঠাৎ তাদের বাসায় পুলিশ আসে। পুলিশ প্রথমে জানতে চায়, সেটি মাছুম আহমদের বাসা কি না। পরে মাছুমের ছবি দেখানোর পর পুলিশ সদস্যরা জানান, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের কাছ থেকে আকস্মিকভাবে এমন খবর পাওয়ার পর তারা বিষয়টি জানতে ও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কারা মাছুমকে গুলি করেছে, কেন তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে কিংবা হামলাকারীদের সঙ্গে তার কোনো পূর্বপরিচয় বা বিরোধ ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিবারের কাছে অজানা।
মাছুমের বাবা আমির আলী জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যুক্তরাজ্য থেকে তার ছোট ছেলে মারুফ আহমদ ফোন করে মাছুমের মৃত্যুর খবর দেন। ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে পরিবারটি গভীরভাবে ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, কী কারণে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা এখনো কিছু জানতে পারেননি।
প্রবাসে থাকা একজন স্বজনের আকস্মিক মৃত্যু সাধারণত দেশে থাকা পরিবারের জন্য যেমন গভীর শোকের, তেমনি নানা প্রশ্নেরও জন্ম দেয়। মাছুম আহমদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পরিবারের সদস্যরা এখন একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শোক সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে জানতে চাইছেন—কী ঘটেছিল সেই রাতে, কেন তাকে গুলি করা হলো এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা সন্দেহভাজনদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।
পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, ব্রিটিশ পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করবে এবং তাদের আইনের আওতায় আনবে। একই সঙ্গে মাছুম আহমদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
বিশ্বনাথের পরিবারটির কাছে মাছুম ছিলেন স্বজনদের মধ্যে পরিচিত ও আপনজন। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও দেশের পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। প্রবাসজীবনে নিজের অবস্থান তৈরি করার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন বলে স্বজনেরা জানান। তাই তার এমন আকস্মিক মৃত্যু পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের খবর দেশে পৌঁছালে স্বাভাবিকভাবেই স্বজন ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ঘটনাটি যদি অজ্ঞাত হামলাকারীদের গুলিতে ঘটে এবং হত্যার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা না যায়, তখন পরিবারের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়। মাছুমের পরিবারের ক্ষেত্রেও বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে হত্যার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত বা হত্যার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, সে বিষয়ে অনুমাননির্ভর কোনো তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ঘটনাস্থলের আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ তদন্তের বিভিন্ন ধাপের তথ্যের ভিত্তিতেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হওয়ার কথা।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা মাছুম আহমদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে বিশ্বনাথে মাছুমের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর পরিচিতজন ও স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রবাসে থাকা একজন স্বজনকে এভাবে হারানোর ঘটনায় অনেকেই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মাছুম আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্যে চলমান তদন্ত। পুলিশ কীভাবে ঘটনাটির সূত্র খুঁজে বের করে, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারে কি না এবং হত্যার পেছনের কারণ কী ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সামনে আসতে পারে।
পরিবারের কাছে আপাতত মাছুমের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। যে মানুষটি জীবিকার প্রয়োজনে দূরদেশে ছিলেন, তার এমন মর্মান্তিক পরিণতির খবর দেশে থাকা স্বজনদের জন্য যেন হঠাৎ নেমে আসা এক দুঃসংবাদ। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের সঙ্গে এখন তারা অপেক্ষা করছেন সেই উত্তরটির জন্য—কেন এবং কীভাবে তাদের মাছুমের জীবন থেমে গেল বিদেশের মাটিতে।


