প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে অবস্থিত কুশিয়ারা নদীর ওপর নির্মিত শেরপুর সেতুতে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে করে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে সাময়িক ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে যারা নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করেন তাদের জন্য।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত ডেকস্লাব মেরামতের কাজের জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত জরুরি।
জানা গেছে, আগামী শুক্রবার ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে রবিবার ২৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত শেরপুর সেতুতে মেরামত কার্যক্রম চলবে। এই সময়ের মধ্যে যান চলাচলে বিভিন্ন ধাপে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রথম দিনে অর্থাৎ শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সেতুর ওপর দিয়ে একলেনে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এরপর একই দিন রাত ১১টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। পরবর্তী সময়ে শনিবার সকাল ৯টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আবারও একলেনে সীমিত আকারে যান চলাচল চালু রাখা হবে।
এই সময়সীমার মধ্যে সেতুটি পুরোপুরি বন্ধ থাকার কয়েক ঘণ্টা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। কারণ এই মহাসড়কটি দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস এবং ব্যক্তিগত যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে। ফলে সাময়িক এই বন্ধ বা সীমিত চলাচল পরিস্থিতি সহজেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করতে পারে।
এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যারা ঢাকা থেকে সিলেট কিংবা সিলেট থেকে ঢাকাগামী, তারা যেন নির্ধারিত বিকল্প রুট ব্যবহার করেন, এতে করে প্রধান সড়কে চাপ কমবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তিও কিছুটা লাঘব হবে।
প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে শেরপুর হয়ে সিলেটগামী যানবাহনগুলো চাইলে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে মিরপুর (বাহুবল), সেখান থেকে শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার হয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে সিলেটে প্রবেশ করতে পারবে। একইভাবে শেরপুর থেকে সিলেটগামী যানবাহনের জন্যও মৌলভীবাজার হয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে বিকল্প পথে চলাচলের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা-সিলেট-সুনামগঞ্জ রুটে চলাচলকারী যানবাহনের জন্যও বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। সৈয়দপুর (নবীগঞ্জ) থেকে শেরপুর হয়ে সিলেট হয়ে সুনামগঞ্জগামী যানবাহনগুলোকে সৈয়দপুর বাজার থেকে রানীগঞ্জ হয়ে জগন্নাথপুর হয়ে সুনামগঞ্জে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই বিকল্প পথগুলো ব্যবহার করলে মূল মহাসড়কের ওপর চাপ কমবে বলে আশা করছে প্রশাসন।
সেতুর এই মেরামত কাজের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, শেরপুর সেতুর ডেকস্লাবের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা দ্রুত সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সময়মতো এই কাজ সম্পন্ন না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই জনস্বার্থে সাময়িক অসুবিধা মেনে নিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের আগে সেতুর এই মেরামত কাজ শেষ করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে উপকার বয়ে আনবে। তবে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত এবং সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পরিবহন শ্রমিক ও চালকরাও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ জরুরি হলেও বিকল্প রুটগুলো সবসময় সমানভাবে উপযোগী নয়। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের জন্য কিছু রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে, যা সময় ও খরচ উভয়ই বাড়িয়ে দেয়।
তবে প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়। পাশাপাশি যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যাত্রা পরিকল্পনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ করিডোর হওয়ায় এখানে যেকোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা সরাসরি জনজীবনে প্রভাব ফেলে। তাই শেরপুর সেতুর এই মেরামত কার্যক্রম যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি এর প্রভাব মোকাবিলায় সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতাও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
সাময়িক এই অসুবিধার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজটি দ্রুত শেষ হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।


