প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পরিবহন শ্রমিক রুবেল আহমদের পাশে দাঁড়িয়েছে জাতীয় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বড়লেখা উপজেলা শাখা। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ-খবর নেন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।
সম্প্রতি রাত ৯টার দিকে নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখার একটি প্রতিনিধি দল দাসের বাজার ইউনিয়নের সুড়িকান্দি গ্রামের রুবেল আহমদের নিজ বাড়িতে যান। সেখানে পৌঁছে তারা দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসা ব্যয় ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
নেতৃবৃন্দ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় রুবেল আহমদের এমন মর্মান্তিক আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহতদের পাশে দাঁড়ানোও সামাজিক দায়িত্বের অংশ। এসময় তারা রুবেল আহমদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার সময় নিসচা নেতারা চিকিৎসার অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও খোঁজ নেন। তারা আশ্বাস দেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে তারা পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রীও তুলে দেন, যা বর্তমান সংকটময় সময়ে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিসচা বড়লেখা উপজেলা শাখার সভাপতি তাহমীদ ইশাদ রিপনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মার্জানুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান আহমদ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবেল আহমদ দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি সড়কে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতেন। দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হওয়ায় এই দুর্ঘটনা তাদের জীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।
নিসচা নেতৃবৃন্দের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের পাশে এভাবে সামাজিক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দৃষ্টান্ত। এতে শুধু ভুক্তভোগী পরিবারই নয়, বরং সমাজেও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গও নিসচা’র এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। উপস্থিত এক স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিসচা’র কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংগঠনটি সড়ক নিরাপত্তা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তিনি আরও বলেন, এমন সামাজিক কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হয় এবং মানুষের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিসচা’র মতো সংগঠনগুলো যদি নিয়মিতভাবে এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তাহলে সমাজে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতিও গড়ে উঠবে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হচ্ছেন, যার একটি বড় অংশই পরিবহন শ্রমিক। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ সরকারি সহায়তার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ভুক্তভোগীদের দ্রুত সেবা পেতে সাহায্য করে।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, রুবেল আহমদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে আরও সহযোগিতা পাওয়া গেলে তার পরিবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে। একই সঙ্গে তারা সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে বড়লেখায় নিসচা’র এই মানবিক উদ্যোগ শুধু একটি দুর্ঘটনা-পরবর্তী সহায়তা নয়, বরং এটি সমাজে সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারা অব্যাহত থাকলে সমাজ আরও মানবিক ও সংবেদনশীল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


