গতকাল ১৩ নভেম্বর ২০২২ সিলেট নগরীতে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে এক নারী ব্যাংকারকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। হামলাকারীদের আক্রমণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অচেতন হয়ে গেলে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী নারী ব্যাংকার মোছা: রুকেয়া বেগম, যিনি সিলেটের একটি বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও তার কর্মস্থানের কলিগের সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় অফিস শেষে তিনি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা একদল যুবক হঠাৎ করে তাঁর গাড়ির গতিরোধ করে।
হামলাকারীরা গাড়ির চালককে মারধর করে এবং জোরপূর্বক গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একই সময়ে তারা গাড়ির ভেতরে থাকা নারী ব্যাংকারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অপহরণের চেষ্টা চালায়। আকস্মিক এই হামলায় তিনি মারাত্মক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে অচেতন হয়ে যান।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালক চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকেন। এ সময় হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে চালক অচেতন অবস্থায় নারী ব্যাংকারকে দ্রুত সিলেটের একটি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান।
একাদিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী ব্যাংকারের ওপর এই হামলার সূত্রপাত ঘটে তাঁর স্বামী, মরহুম অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের মালিকানাধীন জমি ও সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী চক্র উক্ত সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এ নিয়ে পূর্বেও পরিবারটি বিভিন্ন সময় হুমকি ও চাপের মুখে পড়ে। সূত্র জানায়, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই অপহরণচেষ্টা ও হামলা সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভুক্তভোগীর কর্মস্থলের অন্যান্য নারী ব্যাংকাররাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সেলিম হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

