প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
বাংলাদেশে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু হওয়াকে ঘিরে প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা এলাকাতেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে এই সেবা চালু করেছে দেশের মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্পেসএক্সের নির্বাহী স্টেফানি বেডনারেকের একটি পোস্ট পুনঃপ্রকাশ করে ইলন মাস্ক লেখেন, ‘Starlink connecting Bangladesh!’ এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে স্টারলিংকের মোবাইলভিত্তিক স্যাটেলাইট সংযোগ চালুর বিষয়টি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মহলেও আলোচনায় এসেছে।
স্টেফানি বেডনারেক তার পোস্টে জানান, স্টারলিংকের প্রযুক্তি প্রচলিত সেলুলার নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সংযোগের স্তর তৈরি করবে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চল, প্রত্যন্ত এলাকার ব্যবসা ও পরিবার এবং ভ্রমণকারীরা যেখানে সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া কঠিন, সেখান থেকেও যোগাযোগ ধরে রাখার সুযোগ পাবেন।
বাংলালিংক জানিয়েছে, স্টারলিংক-চালিত এই স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালুর ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে এ ধরনের প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে চালু করেছে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বাংলালিংককে সীমিত পরিসরে স্টারলিংক ডাইরেক্ট-টু-সেল সেবা চালুর অনুমোদন দেয়।
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর জন্য আলাদা কোনো স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ, অতিরিক্ত হার্ডওয়্যার বা বিশেষ ধরনের হ্যান্ডসেট প্রয়োজন হয় না। সামঞ্জস্যপূর্ণ ৪জি ফোন এবং বাংলালিংকের সিম থাকলেই নির্দিষ্ট এলাকায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযোগ পাওয়ার সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের সিগন্যাল না থাকলেও ব্যবহারকারী সরাসরি আকাশে থাকা স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই সেবার আওতায় এসএমএস, ডেটা মেসেজিং, হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং প্রয়োজনীয় অ্যাপ ও লোকেশন-ভিত্তিক সেবা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। ফলে এটি সাধারণ মোবাইল ব্রডব্যান্ডের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা এলাকাগুলোতে একটি অতিরিক্ত যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতায় এই প্রযুক্তির গুরুত্বও কম নয়। দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল, হাওর, পাহাড়ি এলাকা এবং সমুদ্রভিত্তিক কর্মক্ষেত্রে সব সময় স্থায়ী মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন ও সচল রাখা সহজ নয়। বিশেষ করে সমুদ্রে থাকা জেলে, নৌযানে কর্মরত মানুষ কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা কখনো কখনো বড় সমস্যায় পরিণত হয়।
স্টারলিংক-চালিত এই সেবা সেই যোগাযোগ ঘাটতি কমানোর একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বাংলালিংকের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের গভীর সমুদ্র এলাকাত


