প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট নগরীতে মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার পর ইসতিয়াক হোসেন সম্রাট (১৫) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডালিয়া এলাকা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে খোঁজ করেও তার অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেননি। এ ঘটনায় তার বাবা নগরের এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
নিখোঁজ সম্রাট ডালিয়া এলাকার ডা. তানজিনা আহমদ দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে একই এলাকার বাসিন্দা গুলজার হোসেনের ছেলে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিল সে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মাদ্রাসায় না পৌঁছানোয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তার খোঁজ নেওয়া শুরু হয়। পরিচিতজন, সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান এবং মাদ্রাসায় যোগাযোগ করেও সম্রাটের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে পরিবার জানিয়েছে। একপর্যায়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয় এবং এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও একই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
পরিবারের জন্য সন্তানের হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিকভাবেই গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার বিষয়। বিশেষ করে একজন কিশোর প্রতিদিনের পরিচিত রুটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে না এলে তার পরিবারের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়। সম্রাটের পরিবারও বর্তমানে তার নিরাপদ ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিল। তবে সে মাদ্রাসায় পৌঁছেছিল কি না, এরপর কোথায় গিয়েছিল বা কী কারণে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই নিখোঁজ হওয়ার কারণ সম্পর্কে অনুমান না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানের ফলাফলের অপেক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ।
নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। সাধারণ ডায়েরির পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য স্থান যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য আইনগত ও অনুসন্ধানমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তির সর্বশেষ অবস্থান, বের হওয়ার সময়, সম্ভাব্য যাতায়াতপথ এবং পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য অনুসন্ধানের কাজে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু ও কিশোর নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। পুলিশ ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, কোনো শিশু বা কিশোর নিখোঁজ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা গুরুত্বপূর্ণ। একটি সাম্প্রতিক জাতীয় প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, শিশু নিখোঁজের ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে নিখোঁজদের খুঁজে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।
সম্রাটের ক্ষেত্রেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এখন তার সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে অনুসন্ধানের স্বার্থে যাচাই না করা কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুমানভিত্তিক অভিযোগ তোলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
একজন কিশোরের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের উদ্বেগের পাশাপাশি তার নিরাপত্তার বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সম্রাটের সন্ধান পাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব তথ্য নিশ্চিতভাবে জানা যায়, সেগুলো দায়িত্বশীলভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিবারের মর্যাদার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, দ্রুত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সম্রাটের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং সে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসবে। তার নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ বা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো তথ্যও অনুসন্ধান শেষে পরিষ্কার হতে পারে।
এদিকে, সম্রাটের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার সন্ধানে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো ধরনের গুজব বা যাচাইহীন তথ্য প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে সহযোগিতা করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
এয়ারপোর্ট থানায় করা সাধারণ ডায়েরির পর পুলিশ বিষয়টি অনুসন্ধান করছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সম্রাটের সন্ধান পাওয়া গেলে তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় মানুষের সমন্বিত সহযোগিতাই তার নিরাপদ সন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


