প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেই রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেটের বিশ্বনাথের সন্তান ও বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন সেলিম। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্য নিয়েই তার এই প্রত্যাবর্তন—এমনটাই জানিয়েছেন তিনি নিজেই। তার দেশে ফেরাকে ঘিরে বিশ্বনাথজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সোমবার দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছানোর পরপরই প্রবাসী এই বিএনপি নেতাকে বরণ করে নিতে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক। বিমানবন্দর থেকে নিজ জন্মভূমি বিশ্বনাথ উপজেলা-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলে পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে তাকে স্বাগত জানানো হয়। বিশেষ করে বিশ্বনাথ-দক্ষিণ সুরমা সীমানার রশিদপুর পয়েন্টে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সেখানে ফুলেল সংবর্ধনার মাধ্যমে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়, যা মুহূর্তেই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।
সংবর্ধনার পর শতাধিক মোটরসাইকেলের একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্বনাথ পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসিয়া সেতু এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পুরো পথজুড়ে স্থানীয় মানুষদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ ফুল দিয়ে, কেউবা হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে স্বাগত জানান। দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফিরে আসা একজন প্রবাসী নেতাকে ঘিরে এমন উচ্ছ্বাস বিরল বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
শোভাযাত্রা শেষে আয়োজিত পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জসিম উদ্দিন সেলিম। তিনি বলেন, দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের এলাকার উন্নয়নে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি দেশে ফিরেছেন। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণের সমর্থন পেলে একটি আধুনিক, উন্নত ও বাসযোগ্য বিশ্বনাথ গড়ে তুলতে কাজ করবেন।
তার বক্তব্যে প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলার বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথাও উঠে আসে। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে অবস্থান করলেও তাদের হৃদয় পড়ে আছে নিজ জন্মভূমিতে। সেই আবেগ ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিবেশ দূষণমুক্ত এলাকা গড়ে তোলা এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের এই যাত্রায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন এবং তিনি সবার সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
জানা গেছে, জসিম উদ্দিন সেলিম দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, যুক্তরাজ্য ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক তাকে স্থানীয় রাজনীতিতে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তার সফরসঙ্গী হিসেবে দেশে এসেছেন যুক্তরাজ্যের সাউথ ওয়েলস বিএনপির সাবেক সভাপতি খালেদ মিয়া, যিনি পুরো সফরজুড়ে তার সঙ্গে ছিলেন। তাদের এই যৌথ উপস্থিতি প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক সক্রিয়তার বার্তা দিয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকেই।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে জসিম উদ্দিন সেলিমের আগমন ঘিরে যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তা অনেকদিন পর দলীয় রাজনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন কয়েকজন নেতা। তারা মনে করেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি যদি মাঠে সক্রিয় হন, তাহলে তা দলকে সংগঠিত করতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার আগমন নিয়ে কৌতূহল ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রবাসে সফলতা অর্জন করা কেউ স্থানীয় উন্নয়নে কাজ করতে চাইলে তা এলাকার জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই মাঠ গরম হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সক্রিয় হচ্ছেন। এর মধ্যে প্রবাসফেরত নেতাদের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বনাথের মতো প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এই বিষয়টি আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জসিম উদ্দিন সেলিম ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন। তার এই প্রত্যাবর্তন কেবল ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি স্থানীয় রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেও মনে করছেন অনেকে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় মনোনয়ন পাওয়া এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর তিনি কতটা সফলভাবে নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেন।


