সিলেটে ৫৯ মামলায় ২৮৪ জন অব্যাহতির পথে

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সিলেটে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। তদন্ত শেষে সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া ৫৯টি মামলায় মোট ২৮৪ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট আদালতে ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তকে কেউ দেখছেন ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে, আবার কেউ বলছেন, এটি দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার নিরপরাধ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো সিলেটেও বেশ কিছু মামলা দায়ের হয়েছিল। এসব মামলার অনেকগুলোতেই রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কিংবা প্রতিশোধপরায়ণতার অভিযোগ উঠে আসে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা ব্যক্তিদেরও আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ফলে নিরপরাধ মানুষকে আইনি জটিলতা ও সামাজিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই অন্তর্বর্তী সরকার ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরিবর্তন আনে। কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর-১৮৯৮ এর সঙ্গে ধারা ১৭৩ (এ) সংযোজন করা হয়, যার মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রাথমিক তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পেলে আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেন। আদালত সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ পায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া ৩৯টি মামলায় ১৪৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। একইভাবে সিলেট রেঞ্জের অধীন তিন জেলার ২০টি মামলায় আরও ১৪০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত কার্যক্রমে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র এজাহারে নাম থাকা মানেই কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হয়নি। বরং তদন্তে যার বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্তে ধারাবাহিক অগ্রগতি হচ্ছে। তিনি জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (এ) ধারার কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে নিরপরাধ ব্যক্তির হয়রানি বন্ধ হয় এবং তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক মামলায় দেখা গেছে পূর্বশত্রুতা কিংবা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ইচ্ছাকৃতভাবে আসামি করা হয়েছিল। আবার কিছু ক্ষেত্রে গণহারে নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রবণতাও দেখা গেছে। এতে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করার পাশাপাশি নির্দোষ ব্যক্তিদের আলাদা করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

আইনজীবীরা বলছেন, ফৌজদারি কার্যবিধিতে যুক্ত হওয়া ১৭৩ (এ) ধারা বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এর ফলে তদন্ত পর্যায়েই ভুলভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে আদালতের ওপর মামলার চাপ কিছুটা কমবে এবং নিরপরাধ মানুষ দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে।

সিলেটের কয়েকজন মানবাধিকারকর্মীও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অনেক সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বড় ধরনের আন্দোলনের সময় গণহারে মামলা দায়ের করা হয়। সেই সব মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিরাও জড়িয়ে পড়েন। তাই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের অব্যাহতি দেওয়া ন্যায়বিচারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, অব্যাহতির প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখতে তদন্ত ও আইনি কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বর্তমানে দেশের বিচারব্যবস্থায় মামলার জট একটি বড় সমস্যা। এর মধ্যে হয়রানিমূলক বা দুর্বল ভিত্তির মামলাগুলো বিচার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে তদন্ত পর্যায়ে সঠিক যাচাই-বাছাই করে নির্দোষ ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার উদ্যোগ বিচার ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে সহায়ক হবে।

সিলেটে অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া অনেক পরিবার এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মামলা নিয়ে আতঙ্ক ও সামাজিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছে। কেউ কেউ চাকরি, ব্যবসা কিংবা সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়েছেন। ফলে অব্যাহতির সুপারিশ তাদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।

অন্যদিকে তদন্তকারীরা বলছেন, যাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান থাকবে। কোনোভাবেই প্রকৃত অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। বরং নিরপরাধ ব্যক্তিদের আলাদা করার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা আরও সহজ হবে।

আইন ও মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, বিচারব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। সেই জায়গা থেকে সিলেটে ৫৯টি মামলায় ২৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

সিলেটসহ আট জেলায় ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নবীগঞ্জে শিক্ষিকাদের অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সৌদিতে আটক হবিগঞ্জের প্রশাসক মুকিব

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হামলার ভয়ে পরিবার নিয়ে বাড়িছাড়া ছালাম

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল চালুর দাবিতে স্মারকলিপি

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

সিলেটসহ আট জেলায় ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নবীগঞ্জে শিক্ষিকাদের অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সৌদিতে আটক হবিগঞ্জের প্রশাসক মুকিব

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হামলার ভয়ে পরিবার নিয়ে বাড়িছাড়া ছালাম

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সোমবার সিলেটে টিসিবির পণ্য মিলবে ১০ এলাকায়

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিসিবির কাউন্সিলর হলেন সুনামগঞ্জের শাহীন

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ