দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজারে ২০ প্লাটুন বিজিবি

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সিলেট বিভাগের সীমান্তবর্তী দুই জেলা সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দুই জেলার সীমান্তবর্তী ও সংবেদনশীল এলাকার মোট ১৫১টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিয়মিত টহল, বিশেষ বেইস ক্যাম্প স্থাপন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের পুরো সময় নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে ২৮ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ৪২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় আট প্লাটুন সদস্য কাজ করছেন। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারে ৪৬ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ১০৯টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই জেলায় ১৫১টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবির ২০ প্লাটুন সদস্য। সীমান্তবর্তী হওয়ায় এসব এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় পূজামণ্ডপের পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সুনামগঞ্জে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবি সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির (পিএসসি)। তিনি জানান, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার আট কিলোমিটারের মধ্যে ২২টি পূজামণ্ডপ এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ২০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এসব মিলিয়ে মোট ৪২টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আট প্লাটুন বিজিবি সদস্য মাঠে কাজ শুরু করেছেন।

তিনি আরও জানান, ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিজিবির মোতায়েন করা দলগুলো বিশেষ নজরদারি ও টহল পরিচালনা করবে। দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকির সুবিধার্থে একটি বিশেষ বেইস ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সীমান্তের প্রত্যন্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। এসব এলাকায় ছড়িয়ে থাকা পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু স্থায়ীভাবে সদস্য মোতায়েন নয়, বরং নিয়মিত টহল এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নজরদারি চালানোও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উৎসবের দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়লে মণ্ডপের আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, জনসমাগমের পরিস্থিতি বোঝা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার প্রয়োজন হয়। বিজিবির বিশেষ বেইস ক্যাম্প স্থাপনকে এই কার্যক্রমের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের তথ্য জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান। তিনি জানান, ৪৬ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার আট কিলোমিটারের মধ্যে ৮৫টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে আরও ২৪টি পূজামণ্ডপ। এসব মিলিয়ে মোট ১০৯টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় পূজামণ্ডপের অবস্থান ও ভৌগোলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজার আয়োজন যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং ভক্ত ও দর্শনার্থীরা নিরাপদে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা।

এবারের নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) তৈরি ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যবহারের জন্য বিজিবি সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই প্রযুক্তির সহায়তায় নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান এবং কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। প্রশিক্ষিত সদস্যরা প্রয়োজনে দ্রুত রেসপন্ডার হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তবে অ্যাপটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে সঠিক তথ্য ব্যবহার, সমন্বিত যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ওপর।

বর্তমান সময়ে বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, তথ্য আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব বাড়ছে। পূজামণ্ডপে কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো, দর্শনার্থীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা নিরাপত্তা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা এ ধরনের কাজে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের সতর্কতা এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও অপরিহার্য।

বিজিবির দুই ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মাদক পাচার ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধেও নিয়মিত সীমান্ত টহল জোরদার রাখা হয়েছে। ফলে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে নেওয়া এই নিরাপত্তা কার্যক্রমের পরিধি শুধু মণ্ডপকেন্দ্রিক নয়; সীমান্ত এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

সীমান্তবর্তী এলাকার ধর্মীয় উৎসবগুলোতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পূজামণ্ডপে শিশু, প্রবীণ, নারীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের সমাগম ঘটে। তাঁদের নিরাপদ চলাচল, পূজার পরিবেশ বজায় রাখা এবং জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আয়োজক কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা উৎসবের পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল রাখতে সহায়তা করতে পারে।

দুর্গাপূজা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো গুজব বা যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এ কারণে যেকোনো নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা এবং দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন।

সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বিজিবির ২০ প্লাটুন সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী ও সংবেদনশীল এলাকার ১৫১টি পূজামণ্ডপকে নিরাপত্তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত টহল, বিশেষ বেইস ক্যাম্প, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে উৎসবের দিনগুলোতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এখন এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের তৎপরতা, তথ্যের দ্রুত আদান-প্রদান এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব হবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি, বিদ্যালয়ে টানা ১০ দিন

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মহাষষ্ঠীতে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, মণ্ডপে মণ্ডপে প্রস্তুতি

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুনামগঞ্জে মাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সারজিসকে রাজনীতি ছাড়ার পরামর্শ ফারুক হাসানের

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি, বিদ্যালয়ে টানা ১০ দিন

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মহাষষ্ঠীতে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, মণ্ডপে মণ্ডপে প্রস্তুতি

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুনামগঞ্জে মাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সারজিসকে রাজনীতি ছাড়ার পরামর্শ ফারুক হাসানের

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ চালুর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জুড়ীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

তাহিরপুরে মহিলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাতাহাতির অভিযোগ

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ