তাহিরপুরে মহিলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাতাহাতির অভিযোগ

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন অভিযোগ করেছেন, কার্যালয়ের অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম তাঁকে মারধর করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুলের দাবি, আফজাল হোসেন নিজেই তাঁর ওপর চড়াও হতে গিয়ে টেবিলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আঘাত পেয়েছেন। সরকারি দপ্তরের ভেতরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পাশাপাশি ঋণের টাকা বিতরণ, উৎকোচ গ্রহণ এবং দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিয়েও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে তাহিরপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর আফজাল হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং পরে তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ধরেন। অন্যদিকে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ফলে অভিযোগগুলো যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করে আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আফজাল হোসেনের অভিযোগ, ঋণ বিতরণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সম্প্রতি ঋণ পাওয়া ২১ জন নারীর কাছ থেকে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম এক হাজার টাকা করে মোট ২১ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার পর সাইফুল তাঁর ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আফজাল হোসেন আরও অভিযোগ করেন, সাইফুল নিয়মিত কার্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অফিসের বাইরের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঋণ বিতরণে অনিয়মের চেষ্টা করা হয় এবং তাঁদের মাধ্যমে বেআইনিভাবে ঋণ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। এসব বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

তবে আফজাল হোসেনের অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের সঙ্গে উত্তর বীরনগর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আফজাল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হতে উদ্যত হন। সাইফুলের দাবি, আত্মরক্ষার জন্য তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে আফজাল হোসেন নিজের টেবিলের ওপর পড়ে গিয়ে আঘাত পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কর্মকর্তা আফজাল হোসেনকে মারধর করেননি।

এদিকে ঘটনার দিনই উত্তর বীরনগর সততা মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শাহিমা বেগম ও সম্পাদক করবুল নেছা ঋণের টাকা নিয়ে পৃথক অভিযোগ করেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার সমিতিটি সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে ২২ হাজার টাকা পায়। পরদিন সকালে কর্মকর্তা আফজাল হোসেন তাঁদের গ্রামে গিয়ে ওই টাকার ভাগ চান বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের দাবি, উত্তোলিত অর্থ তিন ভাগ করে সভাপতি, সম্পাদক ও অফিসের জন্য পৃথক অংশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তাঁরা এতে সম্মতি না দেওয়ায় কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে সেখান থেকে চলে যান বলে তাঁদের অভিযোগ। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আফজাল হোসেনের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্রের বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অর্থ বিতরণ ও ভাগ চাওয়ার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অভিযোগগুলো শুধু কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর মধ্যকার বিরোধেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং সরকারি ঋণ কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও উপকারভোগীদের অর্থপ্রাপ্তির বিষয়টিও সামনে এসেছে। কোনো সরকারি বা উন্নয়নমূলক কর্মসূচির আওতায় ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে উপকারভোগীরা নির্ধারিত নিয়মে অর্থ পাচ্ছেন কি না, তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বিধি মেনে দায়িত্ব পালন করছেন কি না—এসব প্রশ্নের জবাব পাওয়া জরুরি।

বিশেষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যাশায় ঋণ নেওয়া নারীদের জন্য এ ধরনের অভিযোগ উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ঋণের অর্থ তাঁদের জীবিকা, ক্ষুদ্র উদ্যোগ বা পারিবারিক প্রয়োজন মেটানোর কাজে লাগার কথা। সেখানে অতিরিক্ত অর্থ দাবি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে উপকারভোগীদের অধিকার সুরক্ষা এবং কর্মসূচির প্রতি আস্থা বজায় রাখার স্বার্থে দ্রুত ও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট নথি এবং সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম রেজাউল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের আচরণ নিয়ে আগেও সমস্যা ছিল এবং তাঁকে তিন থেকে চারবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও তাঁর আচরণে পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই উপপরিচালক। তাঁর ভাষ্য, আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগও রয়েছে। ফলে এ ঘটনায় শুধু একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তাঁর বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়।

উপপরিচালক আরও জানান, সংশ্লিষ্টদের অনিয়মের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। তাহিরপুরের কার্যালয়ে ঠিক কী ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত। আফজাল হোসেনের করা সাধারণ ডায়েরির বিষয়ে পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, কার্যালয়ের ভেতরে ঘটনার সময় উপস্থিত কেউ ছিলেন কি না, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য পাওয়া যায় কি না এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য কী বলছে—এসব বিষয় তদন্তে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। একই সঙ্গে ঋণ বিতরণের নথি, উপকারভোগীদের তালিকা, অর্থ উত্তোলন ও বিতরণের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা হলে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।

সরকারি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরোধ বা শারীরিক সংঘাতের অভিযোগ দাপ্তরিক পরিবেশ ও জনসেবার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত বিরোধের বাইরে সাধারণ মানুষের সেবা, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি অভিযোগের কোনো অংশ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার ও মর্যাদা রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তাহিরপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের এ ঘটনা তাই কেবল হাতাহাতির অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারি দপ্তরের শৃঙ্খলা, ঋণ বিতরণের স্বচ্ছতা এবং উপকারভোগী নারীদের স্বার্থের প্রশ্ন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া গেলে একদিকে অভিযোগগুলোর সুরাহা হবে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রমের প্রতি জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখার পথ তৈরি হবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

সারজিসকে রাজনীতি ছাড়ার পরামর্শ ফারুক হাসানের

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ চালুর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জুড়ীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় হাম নিয়ে নতুন ভর্তি ১২৩, মৃত্যু নেই

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ট্রাকচাপায় নিহত দুই মোটরসাইকেল আরোহী

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

সারজিসকে রাজনীতি ছাড়ার পরামর্শ ফারুক হাসানের

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ চালুর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জুড়ীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় হাম নিয়ে নতুন ভর্তি ১২৩, মৃত্যু নেই

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ট্রাকচাপায় নিহত দুই মোটরসাইকেল আরোহী

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণে ডিসিদের কঠোর নির্দেশনা

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাড়তি সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটের মাজার এলাকা থেকে উদ্ধার কুমিল্লার ৪ শিক্ষার্থী

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ