আগাম শুকিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের হাওর, বোরো আবাদে শঙ্কা

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

জলবায়ু পরিবর্তন, অনাবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগেই পানিশূন্য হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল। সাধারণত কার্তিক মাসের শেষ পর্যন্ত যেসব হাওরে পানি থাকার কথা, সেখানে এবার অক্টোবরের শেষ দিকেই দেখা দিয়েছে পানির তীব্র সংকট। কোথাও কোথাও হাওরের জমি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বিশেষ করে বোরো ধানের বীজতলাগুলোতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। সময়মতো বীজতলা তৈরি ও চারা উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বাড়তি সেচ খরচ, দুর্বল চারা এবং সম্ভাব্য ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে হাওরপাড়ের কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর।

সুনামগঞ্জের ছায়ার হাওর, দেখার হাওর, শনি হাওর, মাটিয়ান হাওর, মহালিয়া হাওর ও গুরমার হাওরসহ জেলার বিভিন্ন হাওরে এবার পানির স্বাভাবিক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। একসময় যে বিস্তীর্ণ জমিতে বর্ষার পানি জমে থাকত এবং বোরো মৌসুমের প্রস্তুতির জন্য কৃষকেরা অপেক্ষা করতেন, সেই জমির অনেক অংশ এখন শুকনো। কোথাও মাটিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও বীজতলার জমিতে গবাদিপশু চরতে দেখা যাচ্ছে। ফলে নতুন মৌসুমের ধান উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপেই বাধার মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর কার্তিক মাসের শেষ পর্যন্ত হাওরের অধিকাংশ এলাকায় পানি থাকে। এরপর ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করলে কৃষকেরা জমি প্রস্তুত, বীজতলা তৈরি এবং বোরো ধানের চারা উৎপাদনের কাজ শুরু করেন। সাধারণত নভেম্বরের শেষ দিকে বোরো মৌসুমের প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়। কিন্তু এবার অক্টোবরের শেষেই অনেক হাওরের পানি নেমে যাওয়ায় কৃষকদের আগেভাগে সেচের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতাও দ্রুত কমে গেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, আগে যেখানে প্রাকৃতিক পানির ওপর নির্ভর করে বীজতলা প্রস্তুত করা সম্ভব হতো, সেখানে এখন মেশিনের সাহায্যে পানি দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদনের শুরুতেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। শুকনো জমি নরম করে বীজতলা উপযোগী করতে প্রতি কেয়ার জমিতে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কৃষক। জমির পরিমাণ বেশি হলে এই ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে যাঁদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তাঁদের পক্ষে বাড়তি সেচ খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শাল্লা উপজেলার কৃষক মাহবুবুর রহমান জানান, তাঁর বীজতলার জমি শুকিয়ে ফেটে গেছে। প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় মেশিনের সাহায্যে সেচ দিয়ে জমি নরম রাখার চেষ্টা করছেন। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, এভাবে পানির সংকট অব্যাহত থাকলে বীজতলার চারা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে না। দুর্বল চারা পরবর্তী সময়ে জমিতে রোপণের পর ভালো ফলন দিতে না-ও পারে। পাশাপাশি পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

মাহবুবুর রহমানের মতে, বীজতলার শুরুতেই এমন প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে পুরো বোরো মৌসুমে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ বোরো ধানের উৎপাদন অনেকাংশে নির্ভর করে সময়মতো ভালো মানের চারা তৈরি এবং সঠিক সময়ে জমিতে তা রোপণের ওপর। প্রাথমিক পর্যায়ে চারা উৎপাদন ব্যাহত হলে পরবর্তী সময়ে ধানের ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে শুধু একজন কৃষক নন, পুরো এলাকার কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কৃষকদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া। মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পানির সংকটের কারণে ধানের উৎপাদন কমে গেলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাঁর আশঙ্কা, কৃষিকাজে লোকসান অব্যাহত থাকলে জীবিকার প্রয়োজনে অনেক কৃষককে গ্রাম ছেড়ে শহরে যেতে হতে পারে। এমনকি তাঁকে রিকশা চালানোর মতো বিকল্প পেশাও বেছে নিতে হতে পারে বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

একই উপজেলার আরেক কৃষক আব্দুস সাত্তার কৃষকদের ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, কৃষিতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও কৃষকের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে বড় কৃষকেরা ধীরে ধীরে মাঝারি কৃষকে পরিণত হচ্ছেন, মাঝারি কৃষকেরা ছোট হয়ে যাচ্ছেন এবং ছোট কৃষকদের অনেকে দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এভাবে চলতে থাকলে একসময় কৃষি পেশার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাঁর মতে, কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে হলে শুধু মৌসুমি পরামর্শ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না; বরং পানি ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

পাকনার হাওরের কৃষক সিরাজুল হক ওলীও পানির সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, একদিকে সময়মতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়েও কৃষকদের দুশ্চিন্তা রয়েছে। অতীতে কার্তিক মাসেও বৃষ্টিপাত দেখা যেত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র রোদ ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছে। ফলে হাওরের জমি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, কৃষকদের বীজতলা ও জমি প্রস্তুতের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। যেসব এলাকায় পানির সংকট বেশি, সেখানে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

হাওরাঞ্চলের কৃষকদের কাছে বোরো ধান শুধু একটি মৌসুমি ফসল নয়, বরং বছরের প্রধান জীবিকা ও পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। অনেক কৃষক ধারদেনা করে জমি চাষ করেন। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ মৌসুমের শুরুতেই তাঁদের বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। সেই বিনিয়োগের ফল নির্ভর করে শেষ পর্যন্ত ধানের উৎপাদন ও বাজারদরের ওপর। তাই বীজতলা তৈরির সময়েই পানির সংকট দেখা দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বাড়তি সেচ ব্যয় বহন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, চলতি মৌসুমে খরা ও অনাবৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে বলে কৃষকদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। বীজতলায় প্রয়োজনীয় পানি না থাকলে চারা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যেসব এলাকায় পানির উৎস রয়েছে, সেখান থেকে পানি এনে বীজতলা প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের বিষয়ে কৃষকদের দাবির প্রসঙ্গে ওমর ফারুক বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কারিগরি বিষয় বিবেচনা করতে হয়। তাই হঠাৎ করে সব এলাকায় ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের সচেতন করা এবং যেসব স্থানে পানির উৎস রয়েছে, সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বৃষ্টির জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫২১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে ১০ হাজার ৪৬৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। বিশাল এই কৃষি কার্যক্রম সফল করতে মৌসুমের শুরু থেকেই পর্যাপ্ত পানি, মানসম্মত বীজ এবং সময়োপযোগী কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, হাওরাঞ্চলের কৃষি প্রকৃতির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। বৃষ্টিপাতের অনিয়ম, তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটলে কৃষি উৎপাদনের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। তাই শুধু তাৎক্ষণিক সেচের ব্যবস্থা করলেই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। হাওরের পানির উৎস সংরক্ষণ, খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধার, ভূগর্ভস্থ পানির পরিকল্পিত ব্যবহার এবং কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিবেশ ও পানিসম্পদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সুনামগঞ্জের কৃষকদের বর্তমান সংকট তাই শুধু একটি মৌসুমের বীজতলা রক্ষার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজারো পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, খাদ্য উৎপাদন এবং গ্রামীণ জীবিকার ভবিষ্যৎ। সময়মতো পানি সরবরাহ, কৃষকদের সেচ ব্যয় কমানো, মানসম্মত বীজতলা তৈরিতে সহায়তা এবং উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে ক্ষতির বোঝা আরও বাড়তে পারে। হাওরের কৃষকেরা এখন তাকিয়ে আছেন প্রকৃতির অনুকূল পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের দিকে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

এআই আতঙ্কে ওয়াল স্ট্রিটে ধস, উধাও আড়াই লাখ কোটি ডলার

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আ. লীগের রাজনীতির সুযোগ আর দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে দুই গ্রামের সংঘর্ষ

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নতুন সচিব এমসি কলেজের অধ্যাপক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

এআই আতঙ্কে ওয়াল স্ট্রিটে ধস, উধাও আড়াই লাখ কোটি ডলার

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আ. লীগের রাজনীতির সুযোগ আর দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে দুই গ্রামের সংঘর্ষ

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নতুন সচিব এমসি কলেজের অধ্যাপক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিল, আটক ১২ নেতাকর্মী

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুনামগঞ্জে সংঘর্ষের জেরে ৪০ বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মুচলেকায় জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ