শনিবার থেকে শুরু হামের দ্বিতীয় বিশেষ টিকাদান

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা শিশুদের হাম থেকে সুরক্ষিত করতে সারাদেশে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে হামের দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি। মাসব্যাপী এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। দেশের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র ও নির্ধারিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ বিশেষ কার্যক্রম।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত টিকাদান সূচি অনুসরণ করার পরও বিভিন্ন কারণে কিছু শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়। এসব শিশুকে শনাক্ত করে দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনার লক্ষ্যেই বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে হাম ও রুবেলার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিস্তার কমানোর পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচির সামগ্রিক কাভারেজ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই বিশেষ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহযোগিতায় প্রথম ধাপে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য সফলভাবে অর্জন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে প্রথম দফার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও কিছু শিশু টিকার বাইরে থাকার বিষয়টি সামনে আসে। বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ কর্মসূচির সময় দেখা যায়, প্রায় ৪৩ লাখ শিশু তখনও এই সুবিধার আওতায় আসেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত একটি টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। সেই কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও প্রায় ১৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তারপরও প্রায় ২৪ লাখ শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এর সঙ্গে গত তিন মাসে নতুন করে আরও প্রায় ১০ লাখ শিশু ছয় মাস বয়স পূর্ণ করেছে। ফলে আগে টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশু এবং নতুন করে নির্ধারিত বয়সসীমায় পৌঁছানো শিশুদের হিসাব মিলিয়ে এবারের দ্বিতীয় দফার বিশেষ কর্মসূচিতে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই হিসাব অনুযায়ী, এবারের কর্মসূচি শুধু আগের ক্যাম্পেইনে বাদ পড়া শিশুদের টিকা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানের উপযুক্ত বয়সে পৌঁছানো শিশুদেরও এর আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে বিশেষ কর্মসূচিটি নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের একটি পরিপূরক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে।

টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৫৮ লাখ ডোজ টিকা মজুত রয়েছে। সম্ভাব্য ১০ শতাংশ টিকা অপচয়ের হিসাব ধরলেও প্রায় ৫২ লাখ ডোজ কার্যকর টিকা অবশিষ্ট থাকবে। এই পরিমাণ এবারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় টিকার পর্যাপ্ত মজুত থাকা বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে শুধু টিকা মজুত থাকলেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নিশ্চিত হয় না। নির্ধারিত বয়সের শিশুদের শনাক্ত করা, অভিভাবকদের সচেতন করা, টিকাদান কেন্দ্রে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে কর্মসূচির সুষ্ঠু সমন্বয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এবারের কর্মসূচিতে এসব বিষয়েই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এর ফলে কোথাও টিকাদান কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গের মাধ্যমে রোগটি প্রকাশ পেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হাম গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। এ কারণে টিকাদানের মাধ্যমে শিশুদের আগে থেকেই সুরক্ষিত করা জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরিতে এমআর ভ্যাকসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নিয়মিত টিকাদান সূচি অনুযায়ী শিশুদের নির্ধারিত ডোজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশেষ ক্যাম্পেইনে সুযোগ থাকলে টিকা গ্রহণের জন্য অভিভাবকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই শিডিউল অনুযায়ী ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে শিশুদের দুটি নিয়মিত ডোজ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ ক্যাম্পেইনের টিকাকে নিয়মিত ডোজের বিকল্প হিসেবে না দেখে অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একটি শিশুর টিকা নেওয়ার বিষয়টি শুধু ওই শিশুর ব্যক্তিগত সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর সঙ্গে পরিবার ও বৃহত্তর সমাজের জনস্বাস্থ্যও জড়িত। কোনো এলাকায় টিকাদানের হার কমে গেলে সেখানে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই টিকাদান কর্মসূচিতে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অভিভাবকদের অনেক সময় শিশুর বয়স, অসুস্থতা, স্থান পরিবর্তন বা অন্যান্য পারিবারিক কারণে নির্ধারিত সময়ে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। আবার কোনো কোনো পরিবার নিয়মিত টিকাদানের তারিখ সম্পর্কেও পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় সুযোগ হারাতে পারে। বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এ ধরনের বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত তৎপরতার মাধ্যমে এবারের ৩৪ লাখ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা সম্ভব হবে। কর্মসূচি চলাকালে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার ও জনসচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, যাতে কোনো শিশু শুধু তথ্যের অভাবে টিকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।

বিশেষ ক্যাম্পেইন ৩১ অক্টোবর শেষ হলেও টিকাদান কার্যক্রম সেখানেই থেমে থাকবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশেষ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও নতুন করে নির্ধারিত বয়সসীমায় পৌঁছানো শিশুদের জন্য মপ-আপ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। এর ফলে টিকাদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন করে তৈরি হওয়া ঘাটতিও পূরণের সুযোগ থাকবে।

বর্তমানে শিশুদের টিকাদান নিয়ে বিশ্বজুড়েই সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে টিকা জনস্বাস্থ্যের অন্যতম কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক টিকাদান কাভারেজ বজায় রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের বিশেষ কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে টিকাদান থেকে বাদ পড়া শিশুদের একটি বড় অংশ সুরক্ষার আওতায় আসবে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়ন এবং অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর। তাই নির্ধারিত সময়ে শিশুদের টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং নিয়মিত টিকাদান সূচি অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি মূলত একটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা উদ্যোগ। এর লক্ষ্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকা দেওয়ার সংখ্যা পূরণ করা নয়; বরং টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের সুরক্ষার আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে টিকাদানের ঘাটতি কমিয়ে আনা। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসন ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

জাতিসংঘে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলে জাইমা রহমান

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শনিবার সিলেট সফরে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আরসিইপিতে বাংলাদেশের যোগদানের প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নিজ ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় এনসিপি নেতার মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

জাতিসংঘে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলে জাইমা রহমান

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শনিবার সিলেট সফরে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আরসিইপিতে বাংলাদেশের যোগদানের প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নিজ ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় এনসিপি নেতার মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ইউএনজিএতে টানা দ্বিতীয়বার অনুপস্থিত মোদি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ক্লাসিক কলেজে নবীনদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হবিগঞ্জে ইয়াবা দিয়ে বাবা-মেয়েসহ ৩ জনকে ফাঁসানোর অভিযোগ

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ