প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে কালনী নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর মরিয়ম বিবি (২৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার বাঁশবাজার এলাকার কালনী নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয় জেলেরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এক দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মরিয়ম বিবি হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের শাহনগর নরজাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আমজাদ মিয়ার স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। সংসারজীবন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির পাশের কালনী নদীতে গোসল করতে নেমেছিলেন মরিয়ম। এ সময় নদীর পানির স্রোতে তিনি নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁরা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্ট দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে।
নদীতে নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আশপাশের লোকজনও তাঁকে খুঁজতে চেষ্টা করেন। কিন্তু নদীর স্রোত ও পানির বিস্তৃতির কারণে দ্রুত তাঁর সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালানো হলেও মরিয়মের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে উদ্ধারকাজের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর স্বজনেরা।
এরপর বুধবার সকালে আজমিরীগঞ্জের বাঁশবাজার এলাকার কালনী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় জেলেরা। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি নিখোঁজ গৃহবধূ মরিয়ম বিবির বলে শনাক্ত করা হয়। এক দিন ধরে চলা খোঁজাখুঁজির পর তাঁর মরদেহ পাওয়ার খবর পরিবারে শোক আরও গভীর করে তোলে।
কাকাইলছেও নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অপু দাস মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আবেদন গ্রহণ করা হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মরদেহ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ধরনের ঘটনায় পরিবারের আবেদন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ময়নাতদন্ত হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও আইনগত বিধানের ওপর নির্ভর করবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মহিবুর মিয়া জানান, প্রায় এক বছর আগে মরিয়ম বিবির সঙ্গে আমজাদ মিয়ার বিয়ে হয়। মঙ্গলবার নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে নিখোঁজ হওয়ার পর বুধবার তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি এলাকায় শোকের সৃষ্টি করেছে।
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নদী ও জলাশয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। গোসল, গৃহস্থালির কাজ, মাছ ধরা এবং নৌযাতায়াতের জন্য স্থানীয় মানুষকে প্রায়ই নদীর কাছে যেতে হয়। তবে নদীর পানির গভীরতা, স্রোতের গতি এবং তলদেশের প্রকৃতি সব সময় দৃশ্যমান থাকে না। বিশেষ করে বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বা পানির প্রবাহ বেশি থাকলে নদীতে নামার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। স্বাভাবিক মনে হওয়া কোনো স্থানে পানির নিচে স্রোতের টান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
কালনী নদীতে মরিয়ম বিবির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি নদী ও জলাশয়ে নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই দৈনন্দিন প্রয়োজনে নদীতে নামলেও সব স্থানে নিরাপদ গোসলের ব্যবস্থা থাকে না। নদীর গভীরতা, স্রোত এবং পানির নিচের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই নদীতে নামার আগে স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গোসল এড়িয়ে চলা জরুরি।
এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। নদীর যেসব এলাকায় স্রোত বেশি, সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, নিরাপদ গোসলের স্থান চিহ্নিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। পাশাপাশি নদীতে কেউ নিখোঁজ হলে দ্রুত পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। উদ্ধারকাজে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করাও জরুরি।
মরিয়ম বিবির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বল্প সময়ের দাম্পত্য জীবনের পর এমন আকস্মিক মৃত্যু স্বজনদের জন্য গভীর বেদনার। মঙ্গলবার দুপুরে নদীতে নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু বুধবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার করুণ পরিসমাপ্তি ঘটে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মরিয়ম বিবি মঙ্গলবার দুপুরে কালনী নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে নিখোঁজ হন এবং পরদিন সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে পরিবারের আবেদন বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে মরিয়মের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে

