সিলেটে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেট নগরীতে নিম্নআয়ের ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ১, ২ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। নগরের রাজারগলি এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এই উদ্যোগের আওতায় নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক ও নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারগুলোকে কর্মসূচির আওতায় আনার ক্ষেত্রে এই প্রাথমিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পিতভাবে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা গেলে কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপগুলো এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।

সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির কার্যকারিতা অনেকাংশেই নির্ভর করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করার ওপর। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবার, দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল মানুষ, অনিয়মিত আয়ের শ্রমজীবী পরিবার এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা মানুষের জন্য সহায়তা পৌঁছে দিতে নির্ভুল তথ্যভান্ডার গুরুত্বপূর্ণ। একটি পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আর্থিক অবস্থা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা গেলে সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হতে পারে। এ কারণে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহের শুরু থেকেই যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক বলেন, তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের ভুল হলে প্রকৃত দরিদ্র পরিবার কর্মসূচির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের যথাযথভাবে বাছাই করা হয়েছে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহকারীদের হাতে ট্যাব সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি ডাটাবেজে সংযুক্ত করা যায়। এর ফলে তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং পরবর্তী সময়ে যাচাইয়ের কাজ আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী তথ্য সংগ্রহকারীদের নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারের তথ্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা জরুরি। কারণ, এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই কর্মসূচির আওতায় সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে যেতে পারে। তথ্য সংগ্রহের সময় দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা, পরিবারের দেওয়া তথ্য সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা এবং প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হিসেবে অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন সিসিক প্রশাসক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকার এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নগরবাসীকে তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কার্যক্রমটি সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

সিলেট নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে বসবাসকারী পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগর পর্যায়ে একটি বিস্তৃত তথ্যভান্ডার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোনো পরিবার নিয়মিত আয় করে, আবার কোনো পরিবার দৈনিক মজুরি, ক্ষুদ্র ব্যবসা কিংবা অনিয়মিত কাজের ওপর নির্ভরশীল। এ ধরনের পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা ও প্রয়োজন এক রকম নয়। তাই সহায়তা কর্মসূচির পরিকল্পনা করার সময় তথ্যের নির্ভুলতা এবং বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

তবে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়া এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হওয়া এক বিষয় নয়। তথ্য সংগ্রহের পর যাচাই-বাছাই, সম্ভাব্য সুবিধাভোগী নির্ধারণ এবং কর্মসূচির নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। সিলেট নগরীতে ঠিক কতটি পরিবার শেষ পর্যন্ত কার্ড পাবে, কারা অগ্রাধিকার পাবে, কী ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে এবং কার্ড বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি কী হবে—এসব বিষয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ফলে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সংগৃহীত তথ্যের মিল থাকা, একই পরিবারের তথ্য একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো এবং যোগ্য কোনো পরিবার যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। তথ্যের যথাযথ ব্যবহার এবং যাচাইযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করা গেলে কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বাড়তে পারে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৫) নূসরাত লায়লা নীরা, সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রায়হান উদ্দিন মুন্না, সহসভাপতি সৈয়দ রাজন আহমদ, সিনিয়র সহসভাপতি এজাহারুল হক, সাধারণ সম্পাদক নজির হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মুনতাসের চৌধুরী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ সময় রাজারগলি সমাজকল্যাণ সংঘের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম চৌধুরী, সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর আলম। তাঁদের উপস্থিতিতে নগরীর নির্ধারিত ওয়ার্ডগুলোতে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সফলতা শুধু উদ্যোগ গ্রহণের ওপর নির্ভর করে না; বরং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো, তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও নির্ভরশীল। সিলেট নগরীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মাঠপর্যায়ের কাজের মান, সংগৃহীত তথ্যের যথার্থতা এবং পরবর্তী যাচাইপ্রক্রিয়া। এসব ধাপ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা গেলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে উদ্যোগটি সহায়ক হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কর্মসূচির পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। নগরবাসীর সহযোগিতা এবং তথ্য সংগ্রহকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর এই প্রাথমিক উদ্যোগের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করছে। এখন দেখার বিষয়, তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কতটা নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি, বিদ্যালয়ে টানা ১০ দিন

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজারে ২০ প্লাটুন বিজিবি

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মহাষষ্ঠীতে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, মণ্ডপে মণ্ডপে প্রস্তুতি

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুনামগঞ্জে মাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সারজিসকে রাজনীতি ছাড়ার পরামর্শ ফারুক হাসানের

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি, বিদ্যালয়ে টানা ১০ দিন

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজারে ২০ প্লাটুন বিজিবি

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মহাষষ্ঠীতে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, মণ্ডপে মণ্ডপে প্রস্তুতি

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুনামগঞ্জে মাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সারজিসকে রাজনীতি ছাড়ার পরামর্শ ফারুক হাসানের

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ চালুর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জুড়ীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

তাহিরপুরে মহিলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাতাহাতির অভিযোগ

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ