প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাওরের বোরো ফসলরক্ষা ডুবন্ত বাঁধ মেরামত প্রকল্পের আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য ইস্যু করা চেকের ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৯ টাকা উত্তোলন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চেকে যার নাম উল্লেখ ছিল, তাঁর অগোচরে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর নাম আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত চলছে; এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এ ঘটনায় গত ৭ অক্টোবর তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তাহিরপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা কর্মকর্তা ও উপজেলা কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন। অভিযোগে সরকারি অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত ‘কাবিটা নীতিমালা ২০২৩’-এর আওতায় তাহিরপুর উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ডুবন্ত বাঁধ মেরামতের ব্যয়ের আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে বরাদ্দের এক শতাংশ অর্থ থেকে গত ২৮ জুন ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৯ টাকার একটি চেক প্রস্তুত করা হয়। স্টেশনারি সামগ্রী কেনা, আপ্যায়নসহ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর জন্য চেকটি ইস্যু করা হয়েছিল। চেকটির নম্বর ০৯৩০০৯৮।
মনির হোসেনের অভিযোগ, উপজেলা কাবিটা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে তিনি চেকটিতে স্বাক্ষর করে কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরের জন্য পাঠান। ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেকটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে জমা দেওয়ার জন্য ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক বিশ্বজিৎ সূত্রধরের কাছে রাখা হয়। পরে চেকটি কার্যালয়ে জমা দেওয়ার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তা জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসে ব্যাংক হিসাবের বিবরণী সংগ্রহের পর। মনির হোসেন জানান, গত ৬ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের তাহিরপুর শাখা থেকে কাবিটা প্রকল্পের চলতি হিসাবের বিবরণী সংগ্রহ করেন তিনি। হিসাব নম্বর ৫৯১১৩০২০০০৬৪০-এর বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখতে পান, ০৯৩০০৯৮ নম্বর চেকের বিপরীতে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৯ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এরপর ব্যাংক হিসাবের বিবরণী ও বিল রেজিস্টারের মধ্যে অমিল নজরে আসে। এ বিষয়েই তিনি লিখিত অভিযোগ করেন।


