প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় ঝটিকা মিছিলের চেষ্টার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মাহফুজুর রহমানের বয়স ১৯ বছর। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর ধোপাদীঘিরপাড় এলাকায় ওসমানী শিশু পার্কের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া সেলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ৪৪।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাহফুজুর রহমান সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রনখেলী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে সিলেট নগরীর কালীঘাট এলাকার আমজাদ আলী রোডে বসবাস করছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এসএমপির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২১ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালী মডেল থানার আওতাধীন মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করার চেষ্টা করেন। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলার তদন্তে মাহফুজুর রহমানকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তবে মিছিলের ঘটনায় তাঁর নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। মামলার তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টির আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল ও সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নিয়মিত আলোচনায় আসে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের নামে কর্মসূচি আয়োজন বা জনসমাগমের চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্ট ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায় পুলিশ। তবে কোনো মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
এ ঘটনায় পুলিশ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তা অনুযায়ী মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের ভিত্তি হলো ২৫ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পূর্ণ বিবরণ, মামলায় অন্য কোনো আসামি রয়েছেন কি না কিংবা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আদালত তাঁর বিষয়ে কী আদেশ দিয়েছেন, তা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে জামিন, রিমান্ড কিংবা অন্য কোনো বিচারিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তিকে মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে অভিযোগের প্রকৃতি, গ্রেপ্তারের কারণ এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ জনসাধারণের মধ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক।
সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় ২১ সেপ্টেম্বরের কথিত ঝটিকা মিছিলের চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন তদন্তাধীন। মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।


