প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপিতে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনো স্থান নেই উল্লেখ করে তিনি দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা এবং কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তাকে প্রশ্রয় না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন।
রোববার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সভায় চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থানের পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারি কার্যক্রমের জবাবদিহি, দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা এবং সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে বৈঠক শুরু হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সভা শেষ হয়। বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম পর্যালোচনা, স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং জনগণের কাছে সরকারি সেবার সুফল পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানান চিফ হুইপ।
চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে অন্যায় করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। দলীয় পরিচয় কাউকে অপরাধের দায় থেকে রক্ষা করবে না—বৈঠকে এমন কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। নেতাকর্মীদের এমন কোনো কাজে যুক্ত না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় কিংবা সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হন।
বৈঠক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁদের দেখতে হবে, দলের কোনো নেতা বা কর্মী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন কি না। কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিংবা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এবং অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একজন সংসদ সদস্যের বরাতে জানানো হয়েছে। তিনি নিজ নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সতর্ক থাকার এবং দলের কেউ অপরাধে জড়িত হলে তাকে আড়াল না করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেন। তবে বৈঠকে আলোচিত নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রক্রিয়া সংবাদে উল্লেখ করা হয়নি।
চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দলীয় জবাবদিহিও গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে দেওয়া নির্দেশনার তাৎপর্য তাই শুধু দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের অভিযোগ শোনা, প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অপরাধের অভিযোগ আইনসম্মতভাবে তদন্তের বিষয়গুলোর সঙ্গেও সম্পর্কিত।


