প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট নগরের সুইপার কলোনির কাস্টঘর এলাকায় স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে হৃদয় কুমার হরিজন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা হৃদয় পরিবারের জীবিকা নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আমিন নামের এক ব্যক্তি ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তাঁদের দাবি, হৃদয়ের স্ত্রী পিংকী রানীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা এতে জড়িত এবং কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পুলিশ জানিয়েছে, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সিলেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিলেটটুডে২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় কাস্টঘর এলাকায় হৃদয়ের স্ত্রীর ছবি তুলছিলেন আমিন নামের এক ব্যক্তি। বিষয়টি দেখে হৃদয় প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমিন মুঠোফোনে আরও কয়েকজনকে ডেকে আনেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হৃদয় ছুরিকাঘাতের শিকার হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে অন্য একটি সংবাদমাধ্যমও।
নিহতের ছোট ভাই অজয় কুমার হরিজন অভিযোগ করেছেন, আমিনসহ কয়েকজন মিলে তাঁর ভাইকে হত্যা করেছেন। তাঁর দাবি, ভাবির ছবি তোলার প্রতিবাদ করাই ঘটনার পেছনের কারণ। পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ তোলা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার সব দিক সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে পুলিশকে ঘটনার ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করতে হবে।
হৃদয় কুমার হরিজন সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। নগরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত কর্মীদের কাজের বড় অংশই জনসমাগমপূর্ণ সড়ক, পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন স্থানে দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁদের শ্রম নগরের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। হৃদয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি পরিবারের ওপর তৈরি হওয়া শোক ও অনিশ্চয়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে হৃদয়ের পরিবারে এখন স্বজন হারানোর বেদনা। পরিবারের উপার্জন ও দৈনন্দিন জীবনে তাঁর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তবে পরিবারের একজন সদস্যের আকস্মিক মৃত্যু শুধু আবেগগত শূন্যতা তৈরি করে না; অনেক ক্ষেত্রে জীবিকা, সন্তানদের দেখাশোনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে শোকাহত পরিবার যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সে বিষয়টিও সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় রাখা জরুরি।
এ ঘটনায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মতির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কারও ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হলে তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। কেউ অনিচ্ছুক হলে তাঁর ছবি তোলার বিষয়ে সংবেদনশীল থাকা এবং ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানো সামাজিক আচরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে কোনো বিরোধ বা বাক্বিতণ্ডাই সহিংসতার গ্রহণযোগ্য কারণ হতে পারে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও দায় নির্ধারণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার।
এ ধরনের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যও তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য, প্রাসঙ্গিক আলামত এবং অন্যান্য যাচাইযোগ্য তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত বিবরণ নির্ধারণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করা তথ্য, অনুমান বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তাই দায়িত্বশীলভাবে তথ্য প্রচার এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করা জরুরি।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো. মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার, মামলা কিংবা তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযুক্তদের পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ সম্পর্কে পুলিশি তদন্তের হালনাগাদ তথ্যই হবে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি।
আইন অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না; অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায় নির্ধারিত হয়। এ ঘটনায়ও পরিবারের অভিযোগ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও পুলিশের তদন্তের ফলাফল পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
হৃদয় কুমার হরিজনের মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। একই সঙ্গে ঘটনাটি ব্যক্তিগত বিরোধকে সহিংসতায় রূপ নেওয়া থেকে বিরত রাখা, অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানো এবং বিরোধের ক্ষেত্রে আইনসম্মত পথ অনুসরণের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। ঘটনার পেছনের কারণ ও দায়ীদের ভূমিকা নির্ধারণে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।
এখন নিহতের পরিবার ও স্বজনদের প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং দায়ী ব্যক্তিরা আইনের আওতায় আসবেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রকাশিত হলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


