প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি দুই দিনের এক বিশেষ সফরে আজ সিলেটে আসছেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতিধারাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রী এই সফরসূচি নির্ধারণ করেছেন। আজ শুক্রবার এবং আগামীকাল শনিবার—এই দুই দিনে তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন, অসহায় মানুষের মাঝে অনুদান ও ত্রাণ বিতরণ এবং বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। মন্ত্রীর এই সফর কেবল সরকারি কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং তাদের সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকারও এর কেন্দ্রে রয়েছে।
সফরের প্রথম দিনে আজ শুক্রবার বিকাল ৩টায় সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এক বহুমুখী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মন্ত্রীর কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অডিটোরিয়ামে তিনি প্রথমে নিজস্ব স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে অভাবী মানুষের মাঝে অনুদান বিতরণ করবেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের প্রতি তার মমত্ববোধের পরিচয় দেয়। এরপর তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের ‘পার্টনার কংগ্রেস প্রোগ্রাম’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও কৃষকদের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন। এই সফরসূচির অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে মাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে না, বরং শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থানীয় সাফল্যের একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হবে। একই মঞ্চ থেকে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ এবং সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ প্রকল্পের আওতায় ছাগলের খাদ্য বিতরণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সিলেট সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন মন্ত্রী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি সিলেটবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিকাল সাড়ে ৪টায় খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে অত্যাধুনিক ‘হেমাটোলজি এনালাইজার’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে রক্ত পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে তিনি সেখানে র্যাভিস ভ্যাকসিন বা জলাতঙ্ক প্রতিরোধক টিকা প্রদান কার্যক্রমের সূচনা করবেন, যা স্বাস্থ্য খাতে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বড় পদক্ষেপ।
দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বিকাল সোয়া ৫টায় মন্ত্রী যতরপুরে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি, পাড়া কমিটি, সেন্টার কমিটি এবং বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন। এই সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সিলেটের উন্নয়ন সমস্যা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাবেন। রাতের আয়োজনে তিনি নয়াসড়কের সাদিক টাওয়ারে অবস্থিত ক্রিস্টাল প্লেসে জালালাবাদ রোটারি ক্লাবের ‘৪১তম অভিষেক অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। সামাজিক সেবামূলক কাজের জন্য পরিচিত এই ক্লাবের আয়োজনে অংশগ্রহণ করে মন্ত্রী সমাজের সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল শনিবার সকাল ৯টায় মন্ত্রী চৌহাট্টাস্থ সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় অংশ নেবেন। এই সভায় সিলেট নগরের অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত পর্যালোচনা করবেন তিনি। এরপর সকাল পৌনে ১১টায় সোনাতলার সিরাজুল ইসলাম আলীম মাদ্রাসা মাঠে এক বিশাল মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে মন্ত্রী সিলেট সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের দুই হাজার দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি হারে মোট ৬০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করবেন এবং ৭০টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবেন।
সবশেষে, মানসিকভাবে ভেঙে পড়া কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সম্প্রতি প্রবল বর্ষণে সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের হাওর অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০ জন কৃষকের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদানের কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। এই কৃষকদের প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল এবং ৬ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। দীর্ঘদিনের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকের জন্য মন্ত্রীর এই সহায়তা যেমন তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগাবে, তেমনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার যে তাদের পাশে আছে—সেই বার্তাও সবার কাছে পৌঁছে দেবে। মন্ত্রীর এই দু’দিনের সফর কেবল উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন নয়, বরং সিলেটবাসীর প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের এক প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


