প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট নগরীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে প্রাথমিকভাবে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ১, ২ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা। পর্যায়ক্রমে নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের সব পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে নগরীর পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর। এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে নগর ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের প্রস্তুতি, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং নগরবাসীর সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ধারিত তিনটি ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অন্য ওয়ার্ডগুলোতেও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নগরীর প্রতিটি পরিবারের তথ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম বিষয়। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ। তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় উপাত্ত প্রস্তুত করা হবে। তবে কার্ড বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি, কারা চূড়ান্তভাবে কার্ড পাওয়ার যোগ্য হবেন এবং কার্ডের মাধ্যমে কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এই সভায় জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগে সঠিক তথ্যের গুরুত্ব বিশেষভাবে বিবেচ্য। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, পারিবারিক অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য নির্ভুলভাবে নথিভুক্ত করা গেলে পরবর্তী সময়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রস্তুতি সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখা এবং সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের কাছে কর্মসূচির উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা জরুরি।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন প্রশিক্ষিত কর্মীরা
সিসিক প্রশাসক জানান, ১, ২ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করবেন এমন তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করবেন। এ কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেক কর্মীকে প্রশিক্ষণ শেষে একটি করে ট্যাব দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কাজ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যন্ত্র পরিচালনার দক্ষতার পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা, গোপনীয়তা এবং নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য যেন যথাযথ নিয়মে ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব রয়েছে।
সিসিক প্রশাসক আরও জানান, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নগরীর সব পরিবারের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে তথ্যের সামঞ্জস্য ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখা সহজ হবে।
৪২টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে চলবে কার্যক্রম
সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতায় মোট ৪২টি ওয়ার্ডের সব পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক। প্রাথমিকভাবে তিনটি ওয়ার্ডে কাজ শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে পুরো নগরীতে কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বড় নগরীতে প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করা সময়সাপেক্ষ কাজ। এ ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহকারীদের নিয়মিত তদারকি, নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ এবং নাগরিকদের সহযোগিতা কার্যক্রমের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে কোনো পরিবার বাদ পড়লে বা তথ্যের মধ্যে ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রাখা প্রয়োজন।
সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। পাশাপাশি সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে জোনাল অফিসাররাও কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকবেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে সিটি করপোরেশন
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ সফল করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। কারণ, নির্ভুল তথ্যের ওপরই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
পরিবারের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। তথ্য সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি কোনো তথ্য বুঝতে অসুবিধা হলে তা পরিষ্কার করে নেওয়া যেতে পারে। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা জানার সুযোগ থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের কর্মসূচিতে তথ্যের ভুল, অসম্পূর্ণতা কিংবা একই পরিবারের তথ্য একাধিকবার নথিভুক্ত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে পরবর্তী সময়ে উপাত্ত যাচাই ও সুবিধাভোগী নির্ধারণের কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই শুরু থেকেই সতর্কতা ও জবাবদিহির সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নাগরিকদের জন্য তথ্য সংশোধন বা অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকলে প্রক্রিয়াটির প্রতি আস্থা বাড়তে পারে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নারীর ক্ষমতায়ন ও পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হলেও এর বাস্তব সুফল নির্ভর করবে কর্মসূচির চূড়ান্ত নীতিমালা, সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর। তথ্য সংগ্রহের পরবর্তী ধাপে কারা কার্ড পাবেন, কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে এবং কখন কার্ড বিতরণ শুরু হবে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ঘোষণা নগরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সোমবারের মতবিনিময় সভায় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সচিব মো. আশিক নূর, সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনূর আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিকভাবে তিনটি ওয়ার্ডে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সিলেট নগরীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ৪২টি ওয়ার্ডের সব পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কর্মসূচির পরবর্তী ধাপের জন্য একটি বিস্তৃত তথ্যভিত্তি তৈরি হবে। নগরবাসীর অংশগ্রহণ, তথ্যের নির্ভুলতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এ উদ্যোগের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


