প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
দীর্ঘ ৩৩ মাস ভারতের কারাগারে থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন এক নারীসহ তিন বাংলাদেশি। শুক্রবার রাতে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। দীর্ঘ সময় পর স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই তিনজনের দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ভারতে তাদের কারাভোগের অধ্যায়।
দেশে ফেরা তিন বাংলাদেশি হলেন কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার আব্দুল জলিল ও মুজাফফর হোসেন এবং ঢাকা জেলার শারমিন আক্তার। শুক্রবার রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের বাংলাদেশ সীমান্তে এনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তী সময়ে সোনাহাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ভুরুঙ্গামারী থানায় নিয়ে এসে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভুরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন। তিনি জানান, তিন বাংলাদেশির দেশে ফেরার খবর তাদের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা থানায় এলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই তিন বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন। আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে আদালতের প্রক্রিয়া শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয় এবং তারা দীর্ঘ ৩৩ মাস সেখানে অবস্থান করেন।
কারাভোগের দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরার সুযোগ পান তারা। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুক্রবার তাদের ভারতীয় সীমান্ত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। সীমান্তে বিএসএফ তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। এরপর বিজিবি সদস্যরা প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনজনকে ভুরুঙ্গামারী থানায় নিয়ে আসেন।
দীর্ঘদিন বিদেশের কারাগারে থাকার পর দেশে ফেরার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই তাদের পরিবারগুলোর জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। ৩৩ মাসের দীর্ঘ সময় পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে দূরে থাকার পর এখন তারা নিজ দেশে স্বজনদের কাছে ফিরতে পারবেন। পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত একটি পরিচিত বাস্তবতা। ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি হওয়ায় সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। তবে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সীমান্ত অতিক্রম করলে দুই দেশের আইন অনুযায়ী আইনগত জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে আটকের ঘটনাও ঘটে।
এ ধরনের ঘটনায় আটকের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভারতীয় আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আদালতের সিদ্ধান্ত ও সাজা অনুযায়ী তাদের কারাগারে থাকতে হয়। সাজা বা কারাভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরা এই তিনজনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বিএসএফ তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তরের পর সোনাহাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা তিনজনকে থানায় নিয়ে আসেন। সেখানে তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইসহ প্রয়োজনীয় আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা থানায় উপস্থিত হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তিনজনকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হবে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা পরিবারগুলোর জন্যও স্বস্তি ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দেশে ফিরে আসা তিনজনের মধ্যে দুজন কুড়িগ্রামের বাসিন্দা এবং একজন ঢাকার বাসিন্দা। সীমান্তবর্তী কুড়িগ্রামের দুই বাসিন্দাকে তাঁদের নিজ এলাকার থানায় পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে ঢাকা জেলার শারমিন আক্তারের ক্ষেত্রেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
৩৩ মাস সময় খুব কম নয়। একজন মানুষের জীবনের প্রায় তিন বছর বিদেশের কারাগারে কেটে যাওয়া মানে পরিবার, স্বজন, পরিচিত পরিবেশ এবং স্বাভাবিক জীবন থেকে দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা। এই সময়ে পরিবারের সদস্যদেরও প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের জন্য যেমন সময়টি কঠিন, তেমনি তাঁদের পরিবারের জন্যও দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
তবে কারাভোগ শেষে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরতে পারায় তিন বাংলাদেশির জীবনে নতুন একটি অধ্যায় শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এবং দীর্ঘ সময়ের বিচ্ছিন্নতার পর নিজেদের জীবন নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়াই তাদের সামনে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বৈধ পথে যাতায়াত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা ও অনুমোদিত পথ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আইন অমান্য করে সীমান্ত পার হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দুই দেশের আইন অনুযায়ী নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
ভুরুঙ্গামারী সীমান্তে তিন বাংলাদেশিকে ফেরত দেওয়ার ঘটনায়ও দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক সমন্বয় এবং নিয়মিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিএসএফ থেকে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের পর বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এরপর পরিবারের কাছে ফেরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ ৩৩ মাস পর দেশে ফেরার অপেক্ষার অবসান ঘটেছে আব্দুল জলিল, মুজাফফর হোসেন ও শারমিন আক্তারের জন্য। এখন প্রয়োজনীয় আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারা পরিবারের কাছে ফিরবেন। দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার পর স্বজনদের সঙ্গে পুনর্মিলন তাদের জীবনে নিঃসন্দেহে একটি আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে এই ঘটনা সীমান্ত এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে আইন ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এনেছে।


