“হরিনের চোখ যতই সুন্দর হোক না কেন, বাঘ তার প্রেমে পড়ে না”—সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে আজ ইকবাল হোসাইন মায়ার এই সরল কিন্তু গভীর রূপকথন পাঠকমহলে নতুনভাবে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এই উপমার মাধ্যমে লেখক প্রকৃতির সহজ সত্যকে মানবসমাজের জটিল সম্পর্কের দর্পণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

হরিণের চোখের সৌন্দর্য এখানে বাহ্যিক আকর্ষণ, নমনীয়তা এবং কোমল ভাবের প্রতীক। অপরদিকে বাঘ তার স্বভাবগত শক্তিমত্তা, কর্তৃত্ব এবং আধিপত্যবোধের পরিচয় বহন করে। লেখক দেখিয়েছেন, প্রকৃতির এই দুটি সত্তার মধ্যে সহজাতভাবে একটি অনিবার্য দূরত্ব বিরাজ করে। তাদের স্বভাব, চাহিদা এবং অস্তিত্বরক্ষার পদ্ধতি মূলগতভাবে ভিন্ন।
এই রূপকটি মানবসমাজের বিভিন্ন স্তরের সম্পর্কবিন্যাসকে স্পষ্টভাবে উদ্ভাসিত করে। এটি আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে, শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য বা আকর্ষণই কোনো সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে না। সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ভর করে মূল্যবোধ, চরিত্র এবং জীবনবোধের সামঞ্জস্যের উপর। যেমন হরিণ ও বাঘের প্রকৃতি এক না হওয়ায় তাদের মধ্যে কোনো মেলবন্ধন সম্ভব নয়, তেমনি মানুষের ক্ষেত্রেও ভিন্ন মানসিকতা ও জীবনদর্শনের মানুষদের মধ্যে প্রকৃত বোঝাপড়া গড়ে উঠা কঠিন।

লেখকের এই বক্তব্য সমাজের বিভিন্ন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—ব্যক্তিগত সম্পর্ক হোক কিংবা সামাজিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণ। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য এবং স্বভাবগত ব্যবধানকে উপেক্ষা করে কোনো সম্পর্ক টিকে থাকতে পারে না।
ফেসবুকে এই পোস্টটি প্রকাশের পর থেকে শত শত পাঠক তাদের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেছেন। একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, “এই সরল রূপকটি আমাদের সমাজের এক গভীর সত্যকে উন্মোচিত করেছে।” অপর একজন লিখেছেন, “সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যকে প্রাধান্য না দিয়ে অভ্যন্তরীণ সামঞ্জস্যের দিকে নজর দেওয়া উচিত।”

ইকবাল হোসাইন মায়ার এই রূপকথন আমাদেরকে প্রকৃতির নীতির মধ্য দিয়ে মানবজীবনের এক গভীর সত্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এটি প্রমাণ করে যে, সাহিত্য ও দর্শনের মাধ্যমে জীবনের জটিল সত্যগুলোকে কীভাবে সহজভাবে উপস্থাপন করা যায়।


