সুনামগঞ্জে জমিতে সেচ নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ১

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বোরো জমিতে পানি সেচ ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মতিউর রহমান (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের পীরেরগাঁও গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মতিউর রহমান ওই গ্রামের মৃত আব্দুল বারিকের ছেলে। জমির পানি সেচ ও মাছ ধরা নিয়ে আগের দিন শুরু হওয়া বিরোধের জের ধরে পরদিন দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

গ্রামাঞ্চলে কৃষিজমিতে পানি সেচ, জমির সীমানা কিংবা জলাশয়ের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিরোধের ঘটনা কখনো কখনো গুরুতর সংঘাতে রূপ নেয়। পীরেরগাঁওয়ের এ ঘটনাও তেমন একটি বিরোধের করুণ পরিণতি সামনে এনেছে। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পীরেরগাঁও গ্রামের আরব আলীর ছেলে আলমগীর (২৫) এবং আছির উল্লাহর ছেলে কাশেম (৫৫), বাবুল (৫০) ও লেবলু (৩০)-এর পক্ষের জমি পাশাপাশি অবস্থিত। জমিতে পানি সেচ ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে আলমগীর প্রতিপক্ষের বাড়ির কাছাকাছি একটি বোরো জমিতে গেলে পানি সেচ ও মাছ ধরার বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় দ্বিতীয় পক্ষের লোকজন আলমগীরকে মারধর করেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সোমবারের ওই ঘটনার পর বিরোধের অবসান হয়নি। বরং পরদিন সকালে দুই পক্ষের লোকজন আবারও মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। তবে সোমবারের ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে কোনো সালিশ বা সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার সকালে পীরেরগাঁও এলাকার হামিদের বাড়ির সামনের বোরো জমিতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে মতিউর রহমান গুরুতর আহত হন। প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের একজনের হাতে থাকা সুলফির আঘাতে তাঁর ঘাড়ের নিচে এবং বুকের ডান ও বাঁ পাশে গুরুতর জখম হয়।

আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়।

একটি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একজন মানুষের প্রাণহানি শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্যই গভীর বেদনার ঘটনা। পরিবারের একজন সদস্যকে হারানোর শোকের পাশাপাশি এমন ঘটনায় স্বজনদের সামনে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা ও মানসিক বিপর্যয়। মতিউর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা বলে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য আরোপ করা হচ্ছে না।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে মজিব (৩৮), পিতা ইস্কান্দার, গুরুতর অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আহত ব্যক্তিরা জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তবে আহতদের সবার নাম, আঘাতের ধরন এবং তাঁদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে আহতদের অবস্থা নিয়ে নিশ্চিত তথ্যের বাইরে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

এ ধরনের সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে আহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো এবং এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিরস্ত্র বিন আমিন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যায়।

পুলিশের এই বক্তব্য থেকে ঘটনার পরপরই আহতদের চিকিৎসা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগের বিষয়টি জানা গেলেও, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না, কাউকে আটক করা হয়েছে কি না কিংবা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ, আহতদের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রাণহানির ঘটনায় দায় নির্ধারণ করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে হবে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বোরো চাষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মৌসুমে ধানের উৎপাদন অনেকাংশে নির্ভর করে জমিতে সময়মতো পানি সরবরাহের ওপর। পাশাপাশি কোনো কোনো এলাকায় জমি বা জলাশয়সংলগ্ন মাছ ধরার অধিকার নিয়েও বিরোধ দেখা দিতে পারে। এসব বিষয়ে স্পষ্ট সমঝোতা না থাকলে প্রতিবেশী কিংবা জমির মালিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে জমি, সেচ কিংবা মাছ ধরার অধিকার নিয়ে বিরোধের সমাধান কখনোই সহিংসতার মাধ্যমে হতে পারে না। মতবিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কিংবা আইনগত কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা, জমি ও পানির ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা এবং আইনসম্মত সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।

পীরেরগাঁওয়ের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু এবং অন্তত ১২ জন আহত হওয়ার ঘটনা গ্রামীণ বিরোধ নিষ্পত্তিতে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে। একটি বিরোধের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান হলে এমন প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবার অবকাশ রয়েছে।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মতিউর রহমানের মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য।

একই সঙ্গে এলাকায় যেন নতুন করে উত্তেজনা বা সংঘর্ষ সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিরোধের জেরে আরও প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

পীরেরগাঁওয়ের এই মর্মান্তিক ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, জমি বা সম্পদ নিয়ে বিরোধের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। মতিউর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবার যে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। এখন প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটিত হবে, আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

সৌদি আরব লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

প্রকাশ:২৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

স্বাস্থ্য খাতে জাপানের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জুবাইদার

প্রকাশ:২৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

ফেসবুকে মহানবীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

প্রকাশ:২৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান, ব্যালন ডি’অর কেইনের

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

সৌদি আরব লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

প্রকাশ:২৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

স্বাস্থ্য খাতে জাপানের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জুবাইদার

প্রকাশ:২৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

ফেসবুকে মহানবীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

প্রকাশ:২৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান, ব্যালন ডি’অর কেইনের

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

২৯ অক্টোবর নয়, এইচএসসির ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট ফায়ার সার্ভিসকে বিশ্বমানে উন্নীত করার তাগিদ

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কমিশনারের নির্দেশের পরও এলআর ফান্ডের তথ্য দেয়নি সিলেট প্রশাসন

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ