সিলেট দেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহর: পুলিশ কমিশনার

প্রকাশ: ০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই সিলেট মহানগরকে দেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে দাবি করেছেন আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেট এখন বাংলাদেশের অন্যান্য মহানগরের তুলনায় নিরাপত্তা সূচকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এই দাবি শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক তথ্যভিত্তিক সূচকের ওপর নির্ভর করে করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সোমবার রাতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রাউডসোর্সড ডাটাবেজ প্ল্যাটফর্ম Numbeo-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী সিলেট মহানগরের ক্রাইম ইনডেক্স দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন, যা বর্তমানে ৩২.৭০। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কোনো শহরের ক্রাইম ইনডেক্স ৪০-এর নিচে থাকলে সেটিকে তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মানদণ্ডে সিলেটই একমাত্র শহর, যা এই সীমার নিচে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সেফটি ইনডেক্সেও সিলেট এগিয়ে রয়েছে। বর্তমানে এই সূচক ৬৭.২০, যা আন্তর্জাতিকভাবে ৬০-এর ওপরে থাকলে একটি শহরকে নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়। তুলনামূলকভাবে দেশের অন্য শহরগুলো এই মানদণ্ডে অনেকটাই পিছিয়ে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সিলেটের নিকটতম শহর রংপুরের সেফটি ইনডেক্স ৫৪.৪১, যা এই ব্যবধানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের সময় সিলেটের সেফটি ইনডেক্স ছিল ৫২। গত সাত মাসে ধারাবাহিক উদ্যোগ ও কঠোর নজরদারির ফলে তা বেড়ে ৬৭-তে পৌঁছেছে। এই অগ্রগতিকে তিনি একটি ইতিবাচক প্রবণতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শুধু দেশের মধ্যে নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বের কিছু বড় শহরের সেফটি ইনডেক্সও সিলেটের চেয়ে কম। উদাহরণ হিসেবে তিনি লন্ডন-এর কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, সিলেটের বর্তমান সূচক সেই শহরের চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে এই তুলনা শুধুমাত্র পরিসংখ্যানগত এবং বাস্তবতা বিবেচনায় প্রত্যেক শহরের পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, সে প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, কয়েকটি ঘটনাকে ছিনতাই হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও তদন্তে দেখা গেছে, সেগুলোর মধ্যে কিছু ছিল ব্যক্তিগত বিরোধজনিত সংঘর্ষ। বিশেষ করে তালতলা ও তেমুখি এলাকার ঘটনাগুলো যাচাই করে দেখা গেছে, সেখানে ছিনতাই নয়, বরং মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। এ ধরনের ভুল উপস্থাপনা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পুলিশ কমিশনার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একদিনে তিন ছিনতাই, আতঙ্কে নগরবাসী” কিংবা “সিলেট এখন ছিনতাইয়ের নগরী”— এমন শিরোনাম জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং পুলিশের মনোবলেও প্রভাব ফেলে। তিনি মনে করেন, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো শহরের চিত্র তুলে ধরা উচিত নয়। বরং যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর যে ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে পুলিশ দায়িত্ব নিয়েছিল, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাপক পরিশ্রম করতে হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা সম্ভব নয়।

শহরের যানজট ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমের অবদান উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের ফলে জনমত তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের অন্য কোথাও যেখানে ফুটপাত থেকে অবৈধ হকার উচ্ছেদ পুরোপুরি সফল হয়নি, সেখানে সিলেটে তা সম্ভব হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ছিনতাইকারীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মোট ২৬৩ জন ছিনতাইকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষায়িত দল গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৯ জন ডাকাত, ৪৮ জন ছিনতাইকারী এবং ৯৫ জন চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ২০ জন ডাকাত, ১০৩ জন ছিনতাইকারী এবং ১০৪ জন চোর। এতে বোঝা যায়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন পরোয়ানায় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ২৬৬৭ জন এবং জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩০৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গড়ে প্রতি মাসে সহস্রাধিক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শুধু রমজান মাসেই ১১২৯ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সবশেষে পুলিশ কমিশনার বলেন, অপরাধকে সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়, এটি একটি ইউটোপিয়ান ধারণা। তবে অপরাধকে সহনীয় মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে একটি শহরকে নিরাপদ বলা যায়। তার মতে, সিলেট সেই অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভালো থাকলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে এবং সিলেট একটি আদর্শ নগরীতে পরিণত হবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

রাজনগরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কুলাউড়ায় নববর্ষ উদযাপন ঘিরে প্রস্তুতি সভা

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে নতুন গ্যাস সংযোগ নিয়ে সতর্কবার্তা জালালাবাদ গ্যাসের

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছামিরুন হত্যার বিচার দাবিতে আজমিরীগঞ্জে উত্তাল

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শ্রীমঙ্গলে জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যস্ত

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

রাজনগরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কুলাউড়ায় নববর্ষ উদযাপন ঘিরে প্রস্তুতি সভা

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে নতুন গ্যাস সংযোগ নিয়ে সতর্কবার্তা জালালাবাদ গ্যাসের

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছামিরুন হত্যার বিচার দাবিতে আজমিরীগঞ্জে উত্তাল

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শ্রীমঙ্গলে জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যস্ত

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নবীগঞ্জে আন্ডারপাসের দাবিতে জনতার প্রতিবাদ

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে ৪০ দিনে ৭৮ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ