সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্ধারিত নির্বাচন নিয়ে তৈরি হওয়া সংকটের অবসান ঘটেছে। হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিবের সেই চিঠিকে স্থগিত করেছেন, যার মাধ্যমে নির্বাচনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন আয়োজনের পথে কোনো বাধা আর রইল না।
প্রসঙ্গত, আগামী ০১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারিত ছিল। নির্বাচনী তফসিল প্রকাশিত হওয়ার পর ভোটার তালিকা ও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছিল এবং সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উপ-সচিব তার এখতিয়ার বহির্ভূত হয়ে একটি চিঠি জারি করে নির্বাচন স্থগিত করেন।
এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে কামরুল হামিদসহ আরও ছয়জন পিটিশনারের হয়ে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। ম্যাডাম জাস্টিস ফারহাদা কাদের এবং মিস্টার জাস্টিস আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ আজ এই রিট পিটিশনের শুনানি শেষে রুল ইস্যু করার পাশাপাশি উপ-সচিবের সেই চিঠি স্থগিত করেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত সিলেটের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। আজ বুধবার দুপুরে সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের আয়োজনে বারুতখানা পয়েন্ট থেকে একটি বিশাল আনন্দ র্যালি বের হয় যা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশে মিলিত হয়।
এই আইনি জয়ের পেছনে রয়েছে সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের অর্ডিনারী শ্রেণীর পরিচালক পদপ্রার্থী কামরুল হামিদ, শামসুর রহমান কামাল এবং এসোসিয়েট শ্রেণীর পরিচালক পদপ্রার্থী মো. ইব্রাহীম খলিলের গত ২৫ অক্টোবর ঢাকার হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন। মাত্র চার দিনের রেকর্ড সময়ের মধ্যে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ২৯ অক্টোবর সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনের স্থগিতাদেশ খারিজ করে ব্যবসায়ীদের দাবির পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দেন।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা একযোগে সিলেটের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগামী ১লা নভেম্বর ২০২৫ তারিখেই পূর্বঘোষিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। তারা উল্লেখ করেন যে নির্বাচন পেছানোর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন আয়োজন করা না হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে ও ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সমাবেশে সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের উপদেষ্টা খন্দকার সিপার আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ব্যবসায়ী সমাজ চায় একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। তাই প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান, আগের ঘোষণা অনুযায়ী সময়মতো নির্বাচন সম্পন্ন করে ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা ও আস্থা বজায় রাখা হোক।”
সিলেট চেম্বার নির্বাচনের ফোরাম মনোনীত সভাপতি পদপ্রার্থী এহতেশামুল হক চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন যে নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন এবং সিলেটের ব্যবসায়ী মহল শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সমাবেশে অর্ডিনারী শ্রেণির পরিচালক পদপ্রার্থী আব্দুর রহমান রিপন, মোতাহার হোসেন, আব্দুল হাদী পাবেল, সৈয়দ জাহিদ উদ্দিন, ইমরান হোসাইন, মো. আবুল কালাম, খন্দকার কাওছার আহমদ রবি, মো. মাজাহারুল হক, মো. নাহিদুর রহমান, এসোসিয়েট শ্রেণীর পরিচালক পদপ্রার্থী মো. মামুনুর রশিদ, মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন, ব্যবসায়ী নিয়াজ মো. আজিজুল করিমসহ নগরীর বিভিন্ন মার্কেটের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা আনন্দ র্যালিতে সিলেটের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীবৃন্দের ব্যাপক উপস্থিতিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে এই ঐক্যবদ্ধতা সিলেটের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের শক্তি ও সংহতির প্রতীক। তারা পূর্ব ঘোষিত সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও সুন্দর করার লক্ষ্যে সকলের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। এই রায় ও পরবর্তী আনন্দ র্যালি সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
এই সিদ্ধান্তটি প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো সিদ্ধান্তই আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় আদালতের ভূমিকা অপরিসীম। সিলেটের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এখন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।


