প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট মহানগরে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) জোরদার অভিযানে একদিনেই ১০২টি যানবাহন আটক এবং ৮১টির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নগরজুড়ে চলমান এই অভিযানে একদিকে যেমন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও ব্যস্ত এলাকায় ট্রাফিক বিভাগের একাধিক টিম একযোগে কাজ করে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের চিহ্নিত করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।
বুধবার দুপুরে এসএমপির মিডিয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়, এই অভিযানে মোট ৮১টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ১০২টি যানবাহন আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, অভিযানে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে, যেখানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।
মামলার আওতায় আসা যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, প্রাইভেটকার, ট্রাক, পিকআপ এবং কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে আটককৃত যানবাহনের তালিকায়ও মোটরসাইকেলের সংখ্যাই বেশি, যা নগরীতে এই বাহনের ব্যবহার এবং অনিয়মের প্রবণতার চিত্র তুলে ধরে।
এসএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, অনেক চালক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই যানবাহন চালাচ্ছিলেন, আবার কেউ কেউ ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, অতিরিক্ত যাত্রী বহন কিংবা নির্ধারিত লেন ভঙ্গ করার মতো অপরাধে জড়িত ছিলেন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এই অভিযানের সময় অনেক চালককে সতর্ক করা হয়েছে এবং তাদেরকে ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব যানবাহনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।
নগরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ট্রাফিক বিভাগের এই ধরনের অভিযান সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত এমন অভিযান চালানো হলে দুর্ঘটনা কমবে এবং যানজটও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে কিছু চালক অভিযোগ করেছেন, হঠাৎ করে কঠোর অভিযান চালানোর ফলে তারা কিছুটা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন মেনে চললে কোনো ধরনের ভোগান্তির আশঙ্কা নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। চালক, যাত্রী এবং পথচারী—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত মনিটরিং এবং আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শিক্ষামূলক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।
এসএমপির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই অভিযান কোনো একদিনের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। নগরীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব।
সিলেট মহানগরের দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা এবং যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সড়ক ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এসএমপির চলমান অভিযানকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
সব মিলিয়ে, ২৪ ঘণ্টার এই অভিযানে ১০২টি যানবাহন আটক এবং ৮১টির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা সিলেট নগরীতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযানের ধারাবাহিকতা কতটা বজায় থাকে এবং এর মাধ্যমে নগরীর সড়ক ব্যবস্থায় কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।


