সিলেটে নতুন ৯ কূপে গ্যাস উৎপাদনের সুখবর

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট যখন প্রতিদিনই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে, তখন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে এলো এক স্বস্তির খবর। সিলেট অঞ্চলের গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে নতুন করে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ৯টি নতুন গ্যাস কূপ থেকে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান Sylhet Gas Fields Limited–এর অধীনে এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ৯টি কূপের মধ্যে পাঁচটির খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি চারটির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি আরও ৮টি কূপে ওয়ার্কওভার বা পুনরায় উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪২ থেকে ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কনডেনসেট উৎপাদন, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করছে। তার মতে, নতুন কূপগুলো চালু হলে উৎপাদনের পরিমাণ আরও বাড়বে এবং জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সিলেট অঞ্চলের হরিপুর, কৈলাশটিলা, বিয়ানীবাজার ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এই চারটি গ্যাসক্ষেত্র মিলিয়ে মোট ৩৪টি কূপ রয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে ১৭টি কূপ থেকে নিয়মিত গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু পুরোনো কূপের উৎপাদন কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন কূপ খননের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে এই নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন কূপ যুক্ত করা হলে তা স্বল্পমেয়াদে যেমন উৎপাদন বাড়াবে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে।

গ্যাসের পাশাপাশি কনডেনসেট উৎপাদনও সিলেট গ্যাস ফিল্ডের একটি বড় অর্জন। প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ ব্যারেল কনডেনসেট নিজস্বভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান Chevron Corporation এবং Tullow Oil–এর উৎপাদিত কনডেনসেট, যা প্রতিদিন ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার ব্যারেলের মধ্যে রয়েছে। এসব কনডেনসেটের একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।

বিশেষ করে রশিদপুর রিফাইনারিতে এই কনডেনসেট থেকে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদিত হচ্ছে। এখানে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩শ থেকে সাড়ে ৩ হাজার ব্যারেল পেট্রল, ৬শ থেকে ৭শ ব্যারেল অকটেন, ১৫০ থেকে ২৫০ ব্যারেল ডিজেল এবং ১০০ থেকে ১৫০ ব্যারেল কেরোসিন উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদিত এসব জ্বালানি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে।

এই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে Bangladesh Petroleum Corporation–এর অধীনস্থ পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা বিপণন কোম্পানিগুলো। তাদের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পেট্রল পাম্পে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা পরিবহন, শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনের জন্য অপরিহার্য।

বর্তমানে সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রাপ্ত জ্বালানি দেশের মোট পেট্রলের প্রায় ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ, কেরোসিনের ৭ শতাংশ, অকটেনের ৭ থেকে ৮ শতাংশ এবং ডিজেলের একটি অংশের চাহিদা পূরণ করছে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সিলেট অঞ্চলের গ্যাসক্ষেত্রগুলো দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে নতুন কূপ খননের পাশাপাশি একটি তেল কূপ খননের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর জন্য ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদি তেল কূপ থেকেও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন সম্ভব হয়, তাহলে তা দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

স্থানীয় পর্যায়ে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সিলেটবাসী। তারা মনে করছেন, গ্যাস ও জ্বালানি উৎপাদন বাড়লে একদিকে যেমন দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, তেমনি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্থিতিশীলতা আসবে, যা সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের এই সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা দেশের জ্বালানি খাতে একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, সিলেটের এই নতুন ৯টি গ্যাস কূপ শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং দেশের জ্বালানি খাতে একটি আশার আলো হিসেবে দেখা দিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেশের জ্বালানি সংকট অনেকাংশে কমে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

বিজিবির অভিযানে ২ কোটি টাকার ভারতীয় ওষুধ জব্দ

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ইউক্রেন ড্রোন হামলায় মৌলভীবাজারের যুবক নিহত

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শান্তিগঞ্জে তরুণদের উন্নয়নে সচেতনতামূলক আয়োজন

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দোয়ারাবাজারে তেলের বাড়তি দামে জরিমানা

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

উজানের বৃষ্টিতে হাওরে বন্যার শঙ্কা, ধান কাটার তাগিদ

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

বিজিবির অভিযানে ২ কোটি টাকার ভারতীয় ওষুধ জব্দ

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ইউক্রেন ড্রোন হামলায় মৌলভীবাজারের যুবক নিহত

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শান্তিগঞ্জে তরুণদের উন্নয়নে সচেতনতামূলক আয়োজন

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দোয়ারাবাজারে তেলের বাড়তি দামে জরিমানা

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

উজানের বৃষ্টিতে হাওরে বন্যার শঙ্কা, ধান কাটার তাগিদ

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে পিতা-পুত্রের মাদকচক্র ভেঙে দিল র‌্যাব

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কুশিয়ারা নদীর শেরপুর সেতু আংশিক বন্ধে ভোগান্তির শঙ্কা

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুরঞ্জিত হত্যা চেষ্টা মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ