প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট মহানগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন আরিফুল হক চৌধুরী। শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এক সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, যার মধ্যে নগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি দেখতে চান তিনি।
রোববার দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ নির্দেশনার কথা জানান। মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সিলেটবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হলেও একই সঙ্গে বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে—এমনটা তিনি মনে করেন না। বরং প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সক্রিয় রয়েছে বলেই তিনি উল্লেখ করেন। তবে সাম্প্রতিক কিছু ছিনতাইয়ের ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধে যে প্রভাব ফেলেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলেও তিনি স্বীকার করেন।
তার ভাষায়, গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবুও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ কারণেই তিনি সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে যেন এমন কোনো অভিযোগ না আসে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ায়।
এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি এবং পথচারীদের লক্ষ্য করে সংঘটিত অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা। বিশেষ করে রাতের বেলায় শহরের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচলকারী মানুষ নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ঘটনার নানা বর্ণনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সভার ভেতরে উপস্থিত প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কিছু বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু অভিযান চালানোই যথেষ্ট নয়, বরং অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে তা দূর করার উদ্যোগও নিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে বেকারত্ব, মাদকাসক্তি এবং সামাজিক অস্থিরতা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধকে উসকে দেয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এসব সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে।
সিলেটের সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর এই সময়সীমা নির্ধারণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনেকেই মনে করছেন, নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়ার ফলে প্রশাসনের ওপর একটি চাপ তৈরি হবে, যা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে। তবে একই সঙ্গে তারা চান, এই উদ্যোগ যেন শুধু সাময়িক না হয়ে স্থায়ী সমাধানের দিকে যায়।
নগরের ব্যবসায়ী মহলেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক সময় ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যায়, যা ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই তারা চান, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হোক।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছেন। নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এই ঘোষণা শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনা নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে বলে মনে করছেন অনেকে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার—এই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে বাস্তবতা হলো, এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি পরিবর্তন আনা সহজ নয়। তবুও এই সময়সীমা একটি সূচনা হিসেবে কাজ করতে পারে। যদি এই সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তবে তা জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
সব মিলিয়ে, সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় প্রশাসন কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—এখন সেটিই দেখার বিষয়। মন্ত্রীর নির্ধারিত এক সপ্তাহের সময়সীমা শেষ হলে বাস্তব চিত্র কেমন দাঁড়ায়, তা নিয়ে সবার দৃষ্টি এখন সেদিকেই।


