প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রকৃতি। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে, যা ইতোমধ্যেই দেশের কিছু এলাকায় বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক মঙ্গলবার প্রকাশিত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানান, দেশের বেশ কয়েকটি বিভাগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে সিলেট, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় এই ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি, যা স্বল্প সময়ের জন্য হলেও জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যেই শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী ঢাকাসহ খুলনার কয়রা, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুরে হঠাৎ করে শিলাবৃষ্টি হয়। অনেক জায়গায় মানুষ প্রস্তুত না থাকায় এই আকস্মিক আবহাওয়ার পরিবর্তনে কিছুটা বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে কৃষকরা ফসলের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যেও এখন এক ধরনের সতর্কতা কাজ করছে। পাহাড়ঘেরা এই অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় অনেক সময় হঠাৎ করেই তীব্র আকার ধারণ করে। দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং শিলাবৃষ্টি মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছর ধরেই এ সময়টাতে আবহাওয়ার আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে, যা তাদের মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তার জন্ম দিচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে। এই লঘুচাপের প্রভাবে দেশের আকাশে মেঘের সঞ্চারণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে। এর ফলেই ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
কালবৈশাখী ঝড় বাংলাদেশের আবহাওয়ার একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য। সাধারণত চৈত্র ও বৈশাখ মাসে এই ঝড় বেশি হয়ে থাকে। এটি হঠাৎ করে শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে প্রবল বেগে বয়ে যায়। অনেক সময় এই ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে কৃষি, পরিবহন এবং দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের ঝড়ের প্রকৃতি ও তীব্রতায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট সময় ও এলাকায় ঝড় হতো, এখন তা আরও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। ফলে পূর্বাভাস দেওয়া এবং প্রস্তুতি নেওয়া কিছুটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় অবস্থান, উঁচু গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের তাদের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিলেট অঞ্চলে বসবাসরত এক কৃষক জানান, হঠাৎ শিলাবৃষ্টি হলে ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই তারা এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে সময় কাটাচ্ছেন এবং সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর উপায় খুঁজছেন। অন্যদিকে শহরের মানুষও দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করা হবে। তারা নিয়মিতভাবে আবহাওয়ার আপডেট অনুসরণ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেছেন।
সব মিলিয়ে, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আসন্ন কালবৈশাখী ঝড় শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কৃষি এবং অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সময়োপযোগী সতর্কতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমেই এর ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।


