প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটের অন্যতম ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে নারী ইবাদতখানা থেকে দুই নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ ধর্মীয় পরিবেশের মধ্যে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা হলেন হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামই গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী পপি আক্তার (৩৫) এবং শামীম মিয়ার স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০)। বর্তমানে তারা সিলেট নগরীর শাহপরাণ থানাধীন শাহজালাল উপশহর এলাকায় বসবাস করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা একটি আন্তঃজেলা নারী চোরচক্রের সদস্য হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন Sylhet Metropolitan Police-এর গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের একটি দল মাজার প্রাঙ্গণের মহিলা ইবাদতখানায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে সন্দেহজনক আচরণের কারণে দুই নারীকে আটক করা হয় এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পপি আক্তারকে এই চক্রের মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সিলেট মহানগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান, ভিড়পূর্ণ এলাকা এবং জনসমাগমস্থলে সক্রিয় ছিল।
গ্রেফতারের সময় পপির হেফাজত থেকে চুরিকৃত নগদ ১১ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এটি তাদের সাম্প্রতিক চুরির অংশ হতে পারে এবং এর সঙ্গে আরও বড় একটি চক্র জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘটনার পর মাজার এলাকায় আগত দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলেছেন, ধর্মীয় স্থানগুলো সাধারণত নিরাপদ ও পবিত্র পরিবেশ হিসেবে বিবেচিত হয়, সেখানে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়া উদ্বেগজনক। তারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
পুলিশের দাবি, এই চক্রটি কৌশলে নারী ইবাদতখানায় প্রবেশ করে সুযোগ বুঝে দর্শনার্থীদের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করত। বিশেষ করে ব্যস্ত সময় বা ভিড়ের মধ্যে তারা সক্রিয় থাকত, যাতে সহজে ধরা না পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ঘটনাটি বুঝতে পারার আগেই চক্রের সদস্যরা স্থান ত্যাগ করত।
এ বিষয়ে পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এসব স্থানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ সমবেত হন, যা অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে। তাই নিয়মিত নজরদারি, সিসিটিভি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগই নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্দেহজনক কোনো আচরণ দেখলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো—এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ঘটনার পর Sylhet Metropolitan Police জানিয়েছে, সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও জনসমাগমস্থলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি চোরচক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে এ ধরনের অপরাধ দ্রুত প্রতিরোধ করা যায়।
সব মিলিয়ে, শাহজালাল (রহ.) মাজারের মতো একটি পবিত্র স্থানে সংঘটিত এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে যেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তেমনি এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকেও নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে চক্রটির পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

