প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় র্যাবের অভিযান কার্যক্রমে ভুয়া সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি আব্দুল বাছিত রিয়ান, যিনি উপজেলার অলিপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৯ সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা গ্রেপ্তার করেন। র্যাব কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোশাররফ হোসেন সাগর নিশ্চিত করেছেন, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আটক আব্দুল বাছিত রিয়ান হলেন জেলার বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ যাত্রাপাশা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এবং তার চক্র ভুয়া শিক্ষাগত সনদ তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে আসছিল। র্যাব জানায়, তিনি অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করতেন এবং ভুয়া সনদ তৈরি করে পিডিএফ আকারে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতেন। মূল সনদটি রাজশাহী থেকে প্রিন্ট করা হতো এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হতো।
স্থানীয়রা জানান, এই ধরনের জালিয়াতি চক্রের কারণে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীসহ সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষতির মুখে পড়ছে। ভুয়া সার্টিফিকেটের মাধ্যমে চাকরি, ভর্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, যা দেশের শিক্ষাগত ও সামাজিক স্বচ্ছতা বিঘ্নিত করছে। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল বাছিত রিয়ানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছিল। তিনি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সহায়তায় দেশব্যাপী এই জালিয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। র্যাব অভিযান পরিচালনার সময় তার কাছ থেকে কম্পিউটার, প্রিন্টার, জালিয়াতি সংক্রান্ত নথিপত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
শায়েস্তাগঞ্জে র্যাবের এই অভিযানকে স্থানীয় জনগণ স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযান প্রতারণা ও জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। র্যাব জানিয়েছে, তারা এই ধরনের অপরাধে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য আরও অভিযান চালাবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতি কেবল ব্যক্তি নয়, দেশের শিক্ষা ও চাকরির বাজারকেও প্রভাবিত করছে। সরকারি সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে এই ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। র্যাবের এই অভিযান একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করতে পারে, যা অন্য প্রতারক ও চক্রকে সতর্ক করবে।
আটক আব্দুল বাছিত রিয়ান আদালতে হাজির করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। র্যাব আশা করছে, তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করে এই ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধে গুরুত্বারোপ করছে।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখার জন্য র্যাবের এই অভিযানকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনগণকে সচেতন করে এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
উপসংহারে বলা যায়, র্যাবের তৎপরতা ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার মাধ্যমে সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে চক্রের পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক এবং এর আন্তর্জাতিক সংযোগ চিহ্নিত করা না গেলে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে। সরকারের দৃঢ় মনোভাব ও কার্যকর নজরদারি এই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


