প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ বাজারে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে অবশেষে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দেখা গেল। ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা ও দোকান বসানোর বিরুদ্ধে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদায় করা হয়েছে মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা জরিমানা। এ অভিযানের মাধ্যমে বাজার এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে নবীগঞ্জ বাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন দোকান বসানো এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে রাস্তার মূল অংশ দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হতে হচ্ছিল, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছিল।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন জনস্বার্থে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ফুটপাত দখল, অবৈধ স্থাপনা স্থাপন এবং জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযুক্তদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযান চলাকালে বাজারের বিভিন্ন অংশে স্থাপিত অবৈধ দোকান ও স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকা ফুটপাতগুলো আবারও উন্মুক্ত হয়ে যায়। ফলে সাধারণ পথচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন, যার ফলে পুরো কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। তাদের উপস্থিতি অভিযানের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং সম্ভাব্য কোনো বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হয়।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহিল আমিন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ফুটপাত দখল করে কেউ ব্যবসা পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, বাজার এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে।
এই অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ এবং নারী পথচারীদের জন্য এটি বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে কিছু ব্যবসায়ী এই উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন। তারা বলছেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ফুটপাতেই ব্যবসা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাই প্রশাসনের কাছে তাদের দাবি, স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা হোক, যাতে জীবিকা নির্বাহে সমস্যা না হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে শুধু এককালীন অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত মনিটরিং এবং পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, অন্যদিকে তাদের জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে।
সব মিলিয়ে, নবীগঞ্জ বাজারে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—জনস্বার্থে কোনো অবৈধ দখলই সহ্য করা হবে না। এখন দেখার বিষয়, এই উদ্যোগ কতটা ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে এবং বাজারের শৃঙ্খলা দীর্ঘমেয়াদে কতটা নিশ্চিত করা যায়।


