লেখক ও চিন্তক ইকবাল হোসাইন মায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি গভীর দার্শনিক উক্তি প্রকাশ করেছেন যা পাঠক ও সাহিত্যিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। “জীবন এক সংক্ষিপ্ত ভ্রমণকাল, এখানে রাস্তা চেনা যায় কিন্তু মানুষ চেনা যায় না” — এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু মর্মস্পর্শী উক্তির মাধ্যমে লেখক জীবনের অস্থায়ীত্ব এবং মানব সম্পর্কের জটিলতার একটি সারগর্ভ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন।
জনকল্যাণমূলক কাজে ক্লান্ত, শ্রান্ত লেখক ইকবাল হোসাইন মায়া
ইকবাল হোসাইন মায়ার এই কথায় জীবনের পার্থিব যাত্রাকে একটি অস্থায়ী ভ্রমণের সাথে তুলনা করা হয়েছে। আমাদের জীবনের পথচলা অনেকটা অচেনা রাস্তায় হাঁটার মতো, যেখানে রাস্তার মোড়, উঁচুনিচু পথ এবং গন্তব্য সম্পর্কে আমরা ধারণা রাখলেও সেই পথে চলা মানুষদের প্রকৃত চরিত্র ও মনন বোঝা কঠিন হয়ে উঠে। লেখক এখানে একটি মৌলিক দ্বন্দ্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন — আমরা বাহ্যিক বিশ্বকে জানার চেষ্টা করি, জগতের রহস্য উন্মোচন করি, কিন্তু মানুষের অন্তর্লোক আমাদের জন্য প্রায়শই অজানা থেকে যায়।

ব্যবসার এক সংক্ষিপ্ত সফরে লেখক কানাডার নায়াগ্রা জলপ্রপাতে
এই উক্তিটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শত শত পাঠক তাদের মন্তব্যে এই বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই লিখেছেন যে আধুনিক জীবনের দ্রুত গতি এবং ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে মানুষের সাথে ভৌত নৈকট্য বাড়লেও মানসিক দূরত্ব বেড়েই চলেছে। আমরা অনেক মানুষের সাথে পরিচিত হচ্ছি, কিন্তু সত্যিকারের বোঝাপড়া গড়ে উঠছে খুব কম মানুষের সাথেই।
সাহিত্যিক মহলের কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করেন, ইকবাল হোসাইন মায়ার এই উক্তি বাংলা সাহিত্যের দার্শনিক ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জীবনকে ভ্রমণরূপে কল্পনা করা এবং মানুষের অচেনা থাকার বিষয়টি বাংলা সাহিত্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রকাশিত হয়েছে। তবে লেখক তার স্বকীয় ভাষাশৈলীতে এই চিরন্তন সত্যটিকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেছেন।

ব্যবসার এক সংক্ষিপ্ত সফরে লেখক কানাডার নায়াগ্রা জলপ্রপাতে
সমাজবিজ্ঞানীরা এই উক্তিকে বর্তমান সময়ের সামাজিক সম্পর্কের ক্ষয়িষ্ণুতা বোঝার একটি দার্শনিক উইন্ডো হিসেবে দেখছেন। ডিজিটাল যুগে ভার্চুয়াল সম্পর্কের প্রসার এবং বাস্তব জীবনে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও ঘনিষ্ঠতার সংকট এই উক্তির মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জীবন যখন ছোট হয়ে আসে, তখন মানুষের সত্যিকারের পরিচয় জানার তাগিদ আরও বেড়ে যায়, কিন্তু সেই জানার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠে।

ব্যবসার এক সংক্ষিপ্ত সফরে লেখক লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজে
ইকবাল হোসাইন মায়ার এই উক্তি পাঠকদের মনে গভীর দার্শনিক চিন্তার উদ্রেক করেছে। এটি আমাদেরকে শুধু জীবন সম্পর্কে নয়, মানুষের সম্পর্ক এবং আত্মপরিচয় সম্পর্কেও পুনর্বিবেচনা করতে প্ররোচিত করছে। লেখকের এই সরল কিন্তু গভীর চিন্তাধারা বাংলা সাহিত্যে দার্শনিক চিন্তার ধারাবাহিকতাকে সমৃদ্ধ করছে এবং সমকালীন পাঠকদের কাছে জীবনবোধের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।


